>> সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু তরুণ। তাদের চোখে স্বপ্ন আর বুকে উদ্যম। সকলে এসেছে আন্তঃছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে। তাদের নিয়ে এবারও অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ‘ইউনিসাব মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০১৯’। গত রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সম্মেলনটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পলিমারিক উপাদানমুক্ত সবুজ ভবিষ্যত্ নির্মাণে তরুণদের সম্পৃক্তায়ন’।
সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সম্মেলন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কূটনৈতিক-দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলতে এবং তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
অনুষ্ঠানে ইউনিসা-বাংলাদেশের সভাপতি ও ইউনিসাব মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০১৯-এর মহাসচিব শ্যামী ওয়াদুদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুত্ফর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লাইলা আরজুমান বানু, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। উপস্থিত ছিলেন ইউনিসাবের বর্তমান ও সাবেক সদস্যরাও। এ সময় শ্যামী ওয়াদুদ বলেন, ‘চলমান বিশ্বে যে আলোচিত সমস্যাগুলো রয়েছে, সেইসব বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনাগুলো বিকাশের জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের নেটওয়ার্কিং তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।’
বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীরা মোট পাঁচটি কমিটিতে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন আলোচ্যসূচিতে আলোচনা করে একটা সমাধানপত্র পাস করে। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষায়িত কমিটি (এসসিবিএ) এবং আন্তর্জাতিক প্রেস (আইপি)।
কমিটিগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) ‘জম্মু ও কাশ্মীর সংকটে মানবকেন্দ্রিক বিশ্লেষণ ও সমাধান’, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ‘কার্বন প্রবণতার তীব্রতার ওপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প কাঠামো ও নগরায়ণের প্রভাব’ ও ‘কার্যকরী জবাবদিহিতামূলক স্থানীয় প্রশাসন, শান্তি, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্ত সমাজ নিশ্চিতকরণ’, জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) ‘দূষণমুক্ত বিশ্বায়ন :বিশ্বকে দূষণমুক্ত করার জন্য একটি চুক্তি সরবরাহকরণ’ ও ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করার জন্য টেকসই কৃষিসংস্কৃতির অনুশীলনকে বাস্তবে রূপায়ণ’ এবং বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষায়িত কমিটি (এসসিবিএ) ‘মত্স ও প্রাণিসম্পদে বিনিয়োগ : টেকসই উন্নয়ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ’ ও ‘জীববৈচিত্র্য ও বনভূমি সংরক্ষণের আরেকটি ধাপ’ ষিয়ে সম্ভাব্য সমাধান বের করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট ও সনদ প্রদান করা হয়। এক জমকালো নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আন্তর্জাতিক ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ইউনিসাব মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০১৯।
