>> মাশরুবা সোহা
বিভিন্ন সময় দেহের বিভিন্ন অংশের ব্যথায় নাজেহাল হন অনেকেই। ব্যথা নিরাময়ে বাড়িতেই কখনো চলে হাতুড়ে চিকিত্সা, আবার কখনো ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ব্যথা নিরাময়ে তাই একঝাঁক তরুণ বিজ্ঞানী বানিয়েছেন ‘ইলেকট্রো হেলথ’ নামের একটি যন্ত্র। পালসড ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড (পিইএমএফ) প্রযুক্তির সাহায্যে যন্ত্রটি শরীরের ভেতরে চুম্বক ও বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে নিজ থেকে সেরে ওঠতে সাহায্য করে।
গত ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশে প্রথম ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’ মেলায় যন্ত্রটি উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর এবং বাইবিট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী। তার হাত ধরেই দেশের একঝাঁক তরুণ এই যন্ত্র তৈরিতে সাফল্য পায় এবং যন্ত্রটি বাজারে নিয়ে আসে বাইবিট লিমিটেড।
জানা যায়, মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথা নিরাময়ে পিইএমএফ প্রযুক্তির উপকারিতা নিয়ে প্রায় ৬০ বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে হয়েছে বেশ কয়েকটি সফল গবেষণা। ১৯৭৮ সালে ভাঙা হাড় জোড়া দিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন অধ্যাপক রব্বানী ও তার অগ্রজ দুই বিজ্ঞানী। ব্যথা নিরাময়ে এই পদ্ধতিই ব্যবহার করে ‘ইলেকট্রো হেলথ’। এ ধরনের যন্ত্রগুলো ‘স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার যন্ত্র’ হিসেবে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ডিভাইস হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহূত হচ্ছে।
ঘাড়, পিঠ ও হাঁটুর ব্যথায় ঘরে বসে ব্যবহার যায় ‘ইলেকট্রো হেলথ’। একটি বেল্টের মতো করে যন্ত্রটি শরীরে জড়িয়েই পাওয়া যায় এর সুফল। এই যন্ত্রে ব্যাটারিচালিত একটি ইলেক্ট্রনিক সার্কিটের ভেতরে থাকা একটি কয়েলের মধ্য দিয়ে পালস প্রবাহিত করে, যা শরীরে একে একে চুম্বক শক্তি ও বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে। ফলে শরীরের ভেতরে চুম্বক ও বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে নিজ থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে। কয়েকদিনের ব্যথা মাত্র আধা ঘণ্টার চিকিত্সাতেই দূর করতে পারে এটি। আর দীর্ঘ দিনের ব্যথার জন্য দরকার দৈনিক কয়েক ঘণ্টার চিকিত্সা।
