প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের শর্ট বলের শিকার হয়ে। এর মধ্যে টপ অর্ডারের তিনজন তেড়েফুড়ে শর্ট বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন।
সামনে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর। এরপর আছে বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ। দুই জায়গাতেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামলাতে হবে প্রচুর শর্ট বল। এ অবস্থায় দেশের মাটিতেই শর্ট বলে নাকাল হওয়াটা একটা চিন্তার ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু গত ম্যাচে শর্ট বলেই আউট হওয়া সৌম্য সরকার বলছেন, এটা দুশ্চিন্তার কোনো ব্যাপার নয়। কারণ তারা শর্ট বলে ভয় পেয়ে আউট হচ্ছেন না। মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন, সেটাকে তিনি বলছেন, ‘বুদ্ধিমত্তার অভাব’; ভয় নয়।
সৌম্য মনে করেন, নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডে শর্ট বল হলে যে ভয় পেয়ে পেছনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে, সেটা তাদের মধ্যে নেই। আর সে জন্যই তারা সাহস করে বল সামনে এগিয়ে মারতে পেরেছেন, ‘দুশ্চিন্তা না। আমার কাছে মনে হয় ওরা শর্ট বল করেছে, আমরাও দৌড়ায়ে মারতে গিয়েছি। এটা সাহসের ব্যাপার। শর্ট বলের মধ্যেও জোরে মারতে গিয়েছি। আমরা পিছিয়ে গিয়ে আউট হলে বলা যেত যে, আমরা শর্ট বলের ভয়ে আউট হয়েছি। সামনে গিয়ে আউট হয়েছি। আমরাও জোরে বল আরও জোরে মারতে গিয়ে আউট হয়েছি। আমরা যদি ক্লেভারলি বুদ্ধি খাটিয়ে প্লেসিং করার চেষ্টা করতাম, টাইমিং করে খেলতাম তাহলে ভালো হত।’
সৌম্য মনে করেন, শর্ট বলে এভাবে খেলাটা সাহসের ব্যাপার। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এভাবে মারার চেষ্টা করার কোনো বিকল্প তিনি দেখছেন না। গত কয়েকটা ম্যাচ থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শর্ট বলার খেলার টেকনিকে উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
দেশের মাটিতে সারা বছর স্পিন খেলে অভ্যস্থ থাকায় শর্ট বলে সাহস থাকার পরও তারা বুদ্ধিমত্তার সাথে খেলাটা খেলতে পারেননি বলেই বলছিলেন এই বাহাতি ব্যাটসম্যান, ‘শর্ট বল খেলা তো সাহসিকতার ব্যাপার। আমরা ভয়ে আউট হয়েছি কিনা সেটার কথা বলছিলাম। আপনারা দেখছেন যে আমরা কেউ ভয়ের জন্য আউট হইনি। হয়তোবা টেস্ট ম্যাচ হলে একটা কথা। কিন্তু টি-টুয়েন্টিতে শর্ট বল আপনাকে খেলতে হবে, না খেললে একটা স্কোরিং অপশন কমে যাবে। আমি বললাম, ভয়ের কিছু নাই। আর আমরা অনেক ইমপ্রুভ করেছি। লাস্ট কয়েক ম্যাচে আমরা শর্ট বলে তেমন আউট হয়নি। আর আমাদের যেই কন্ডিশনে খেলা হয় সেখানে বেশিরভাগ স্পিন খেলি, এখান হঠাত্ যখন আপনি একজন কুইক বোলারকে খেলতে আর্লি স্টেইজে একটু সমস্যা হয়। কিন্তু ওটা আমাদের অ্যাডাপ্ট করতে হবে।’
