আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেলকে গতিশীল করা প্রয়োজন :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৪০

 ‘আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেল’কে আরো কার্যকর ও গতিশীল করা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, আমরা দৈনন্দিন বিচারকার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ইদানীং প্রায়শ লক্ষ করছি যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এসব বিষয়ে পুলিশের আইজি বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন এবং করছেন। কিন্তু ঐসব অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। এ কারণে আমরা প্রত্যাশা করছি যে, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে ঐ অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুততার সঙ্গে বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন এবং দোষী প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ অভিমত দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, আমরা মনে করি, আদালতের এ প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের আইজি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ‘আইজিপি কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেল’ এর কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করা হবে।

চলতি বছরের ১১ জুন পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে শ্রমিকনেতা নুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিনই নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা বাদি হয়ে পুঠিয়া থানায় আট জনকে আসামি করে এজাহার দেন। ঐ এজাহারে বলা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। কিন্তু ঐ এজাহারটি গ্রহণ না করে পরবর্তীকালে বাদীকে ডেকে নিয়ে জব্দ তালিকা, সুরতহাল প্রতিবেদনসহ কিছু সাদা কাগজের ওপর স্বাক্ষর নিয়ে রাখে থানাপুলিশ। পরে ঐ সাদা কাগজে এজাহার টাইপ করে থানায় তা রেকর্ডভুক্ত করা হয়। ঐ এজাহারে কোনো আসামির নাম উল্লেখ ছিল না। যা রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে। এজন্য থানার তত্কালীন ওসি সাকিলউদ্দিন আহমেদকে দায়ী করা হয়। ঐ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, ওসির মতো থানার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। যা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ১৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও আনুষঙ্গিক নথির ভিত্তিতে সাকিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে দুদক। হাইকোর্ট বলে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরব গুটিকয়েক পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের অন্যায়, বেআইনি আচরণ ও অপরাধের কারণে ম্লান হতে দেয়া ঠিক নয়।

শিশুর পরিচয় প্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ:

শ্রমিক নেতা নুরুল হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এক শিশু। রাজশাহীর পুলিশ প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, একজন শিশুর জবানবন্দি প্রেসবিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে রাজশাহীর পুলিশ প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং আইন ভঙ্গ করেছে। তাই শিশু আইন সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

হত্যা মামলার তদন্ত করবে পিবিআই

গত ১১ জুন নিগার সুলতানা কর্তৃক প্রেরিত মূল এজাহারটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্সকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পিবিআইপ্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মামলাটির তদন্ত তদারকিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আদালত প্রত্যাশা করে।