ডাক্তারদের সেবক মনোভাব অত্যাবশ্যক

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৮

ডাক্তারি পেশা একটি মহত্ সম্মানের পেশা। সমাজে সকল পেশাজীবী মানুষের সমান গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক এবং ডাক্তারগণ তুলনামূলকভাবে একটু বেশিই সম্মানের পাত্র। কেননা শিক্ষক নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান প্রদান করেন এবং ডাক্তার অসহায়, অক্ষম, রোগাক্রান্তের সেবা-শুশ্রূসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চালান। সে জন্য ডাক্তারদের  সেবক মনোভাব খুবই প্রয়োজন।

বাংলাদেশে চিকিত্সা খাতে অনগ্রসরতা এবং চিকিত্সা সেবার জন্য গণহারে রোগীদের বিদেশে গমনের অন্যতম কারণ হলো ডাক্তারদের রোগ নির্ণয়ে গবেষণা না করা এবং সেবক মনোভাব ত্যাগ করে ভক্ষক মনোভাব গ্রহণ করা। কিছু কিছু ডাক্তার এখন অর্থের পেছনে ছুটেন। যে ক্লিনিক বেশি টাকা দেয় সেখানে রোগী দেখেন। একজন একই দিনে দুইয়ের অধিক ক্লিনিকে বসেন। তাছাড়াও তাদের নিজস্ব ক্লিনিক অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকে সেখানেও সময় দিতে হয়। ক্লিনিকগুলোতে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শত শত রোগী দেখতে হয়। ফলে দেখা যায়, রোগীর রোগ নির্ণয়ে গবেষণা করা তো দূরের কথা রোগীর রোগের অবস্থা শোনার মতোই সময় তাদের থাকে না। রোগীর পরিপূর্ণ কথা না শুনেই ডজনখানেক টেস্ট অথবা ওষুধ লিখে দেন। রোগীকে দেওয়া টেস্টগুলো যাতে তার ক্লিনিক অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা হয়, সে ব্যবস্থা করতেও তিনি ভুল করেন না। আর ডাক্তারদের ভিজিটিং ফিসের কথা নাই বা বললাম। শুধু তাই নয় রোগীর অবস্থা যাচাই এবং রোগের ধরন ও প্রকৃতি নির্ণয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে ওষুধ  কোম্পানিগুলোর ওষুধের প্রয়োগ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। কেননা বাইরেই অপেক্ষমাণ থাকে কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের অবস্থাও এমনই। বহির্বিভাগের চতুর্দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালচক্র। রোগীর তুলনায় দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর সেলস্ম্যানই বেশি থাকে। অনেক ডাক্তার অর্থ আর কোম্পানিপ্রদত্ত সামান্য উপহারের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যান। কোম্পানিকে খুশি করতে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন নানান কিসিমের ওষুধ।

সরকারি হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ  অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানে যে পরিমাণ শয্যা বা বেড রয়েছে তার তুলনায় রোগী বেশি। কেননা ক্লিনিক ও ডাক্তারদের অর্থলিপ্সার ভয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরিব ও মধ্যবিত্ত রোগীরা ভালো চিকিত্সা এবং অর্থ সাশ্রয়ের আশায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমায়। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি ঘটে। সেখানেও ডাক্তারদের অবহেলার শিকার হতে হয়। অনেকাংশে জরুরি বিভাগে ডাক্তার থাকে না। অল্প বয়স্ক ও অনভিজ্ঞ ইন্টার্নি ডাক্তার কর্মরত থাকে। জরুরি মুহূর্তে তারাই রোগীদের অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার মহাশয় তার নির্ধারিত সময়ে এসে ইন্টার্নি ডাক্তারদের ভুল ধরতে এবং বকা দিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রোগীর শরীরে কোথায় সমস্যা সেখানে হাত দেওয়া তো দূরের কথা রোগীর দু-একটা কথা শুনেই রোগ ধরে ফেলেন এবং ডজনখানেক টেস্ট দিয়েই বিদায় নেন!  ফলে জরুরি বিভাগে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রফেসর এবং ইন্টার্নি ডাক্তারদের দ্বারা রোগী ভুল চিকিত্সা গ্রহণ করে হয়রানির শিকার হয়। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, যদি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অবস্থা এমন হয় তাহলে রোগীদের অবহেলা, ভুল চিকিত্সা দেওয়ার এই দায় কে নিবে?

ডাক্তারি পেশার মতো মহত্ এই পেশাটাকে বর্তমানে কলুষিত করে ফেলেছে কিছু ডাক্তার নামক অশুভ ব্যক্তি। যার ফলে সাধারণ মানুষ এদের কাছ থেকে না পাচ্ছে সেবা,  না পাচ্ছে সঠিক রোগ নির্ণয়ের নিশ্চয়তা। এতে চিকিত্সাখাতে অবনতি ঘটছে। মানুষ প্রতিদিন চিকিত্সা সেবা নিতে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে।

n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়