রান উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব। সাগরিকার উইকেটে দর্শকরা পেয়েছেন টি-২০র প্রকৃত বিনোদন। রান স্বর্গে ব্যাটসম্যানরা দাপট দেখিয়েছেন। চট্টলার ক্রিকেটমোদীরা দেখেছেন চার-ছক্কার ধন্ধুমার ব্যাটিং। বোলারদের জন্য পরীক্ষার উইকেট ছিল বটে। তবে সার্বিকভাবে রান মিছিলের চট্টগ্রাম পর্ব বিপিএলকে জমিয়েছে বেশ।
টুর্নামেন্ট প্রায় অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়েছে ইতিমধ্যে। চট্টগ্রাম পর্ব শেষে সাত ম্যাচ খেলে ৫টি জয় নিয়ে শীর্ষে আছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দ্বিতীয় স্থানে আছে পাঁচ ম্যাচে ৪টি জয় পাওয়া রাজশাহী রয়্যালস। ছয় ম্যাচ খেলে চারটি জয় পেয়েছে ঢাকা প্লাটুন। খুলনা টাইগার্স ৩টি, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ২টি, সিলেট থান্ডার-রংপুর রেঞ্জার্স ১টি করে জয় পেয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে ইতিমধ্যে দলগুলো ফিরেছে ঢাকায়। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেছে খুলনা টাইগার্স, রংপুর রেঞ্জার্স। চট্টগ্রামের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাকী রিহ্যাবের কাজ করেছেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে ভুগছেন মাহমুদউল্লাহ। আগামীকাল থেকে শুরু হবে বিপিএলের তৃতীয় পর্ব। শেরেবাংলায় এদিন প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম-ঢাকা, দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা-রংপুর পরস্পরের মুখোমুখি হবে। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে তৃতীয় পর্ব। ২ ডিসেম্বর সিলেটে শুরু হবে টুর্নামেন্টের চতুর্থ পর্ব।
রানের মিছিল দেখিয়েছে চট্টগ্রাম। প্রথম পর্বে ঢাকায়ও রান হয়েছে বেশ। অন্তত অতীতের আসরগুলোর তুলনায় অনেক ভালো রান উঠেছিল মিরপুরের উইকেটে। কিন্তু রানের মিছিলটা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে সাগরিকার উইকেট। এবার বিপিএলে সেঞ্চুরি হয়েছে দুটি। বলা বাহুল্য, দুটিই চট্টগ্রামে। আন্দ্রে ফ্লেচার ও ডেউইড মালান সেঞ্চুরি করেছেন। চট্টগ্রাম ২০০ ছাড়ানো স্কোর হয়েছে ৫টি। সর্বোচ্চ ৪ উইকেট ২৩৮ রান তুলেছিল চট্টগ্রাম, গত ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লার বিপক্ষে। ওই ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়েছে। ৪৬০ রান উঠেছিল দুই ইনিংসে। চট্টগ্রামে ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনিংস প্রতি রান উঠেছে ১৭৪.২৯ গড়ে।
আরও পড়ুন: ২০১৯-এর চলচ্চিত্র: আওয়াজ বেশি শুভমুক্তি কম
সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে মিরপুরের উইকেট। প্রথম ম্যাচে মিরপুরে হয়েছিল ৮টি ম্যাচ। ইনিংস প্রতি রান হয়েছিল ১৪৪.১৮ গড়ে। দুই ইনিংস মিলে সর্বোচ্চ ৩৪০ রানের ম্যাচ হয়েছে মিরপুরে। যেখানে অনেক এগিয়ে চট্টগ্রাম।
মিরপুরে সবসময় বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধা থাকে। ব্যাটিং নির্ভর উইকেট হলেও বোলাররা দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পান। চট্টগ্রামে অবশ্য বোলাররা তেমন সুবিধা পাননি। বেদম প্রহারের শিকার হয়েছেন অনেকে।
সাগরিকার উইকেট সম্পর্কে ঢাকা প্লাটুনের তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান বলেছিলেন, ‘এটা আসলেই ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ। বোলারদের জন্য একেবারে পুরাই শেষ। এই জায়গায় বোলারদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং। ব্যাটসম্যানদের জন্য বিপিএলের দ্বিতীয় রাউন্ড বেশ ভালো ছিল। দেশি ব্যাটসম্যানরা এই উইকেট থেকে অনেক শিখতে পারবে। মিরপুর আর সিলেট যাই বলেন, এরকম উইকেট পাওয়া মুশকিল বাংলাদেশে। এখানে বেশি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। তবে এখান থেকে শিখতে পারলে আমাদের জন্য কাজে দেবে।’
টি-২০ তে রানের ছন্দ দেখেই অভ্যস্ত দর্শকরা। এখন সবার মনে প্রশ্ন, চট্টগ্রামের মতো মিরপুরের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের এমন দাপট অব্যাহত থাকবে কি?
ইত্তেফাক/বিএএফ
