রাজশাহী সদরে ইশতেহার নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দুই জোটের প্রার্থী

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫১

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে রাজশাহী সদর (সিটি কর্পোরেশন) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। বুধবার নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে তারা এসব কথা বলেন।

মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে তা দেশের উন্নয়নের পথ উন্মোচন করবে। অত্যন্ত কার্যকর এই ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের উন্নত দেশে পরিণত হবে।’

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘বিএনপির ইশতেহারে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফল ঘটেছে। বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করলে ইশতেহার বাস্তবায়ন করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে তেমন কিছুই নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়ন গণতন্ত্র সুসংহত হবে।’

জানা গেছে, ১৪ দল মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বুধবার সকালে নগরীর ভাটাপাড়া, ডিঙাডোবা ও লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের এলাকায় নৌকার পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি বাসিন্দাদের হাতে নৌকা প্রতীকের লিফলেট তুলে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। কুশল বিনিময় করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকু ও ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: নির্বাচনে গুজব রোধে ইসির মনিটরিং সেল গঠন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের সমালোচনা করে বাদশা বলেন, ‘তাদের ইশতেহার হাস্যকর। তারা বলেছে, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোনো বয়স সীমা থাকবে না। আমরা বলছি, তরুণরা জাতির ভবিষ্যৎ। আগামীতে তাদের হাতেই দেশকে তুলে দিতে হবে। তাদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। তাই অগ্রাধিকার তাদেরই বেশি থাকা উচিত।’

অন্যদিকে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিজানুর রহমান মিনু নগরীর ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও ধানের শীষে ভোট চান। এ সময় মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ পারভেজ পিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মিনু বলেন, ‘সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছে। নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থকের ওপর হামলা-নিপীড়ন চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ