২০১৯ সাল দুর্দান্ত কাটিয়েছে লিভারপুল। একপয়েন্টের জন্য ম্যানচেস্টার সিটির কাছে প্রিমিয়ার লিগ হারালেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে তারা। এরপর উয়েফা সুপার কাপ আর ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে তিনটি শিরোপা নিয়ে বছরটা শেষ করেছে অল রেডরা। এমন অর্জনের পর দলটির কোচ য়ুর্গেন ক্লপ নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করছেন।
লিভারপুলের তিন শিরোপার পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে দাপটটাই মূলত দলটির মাহাত্ম্য বাড়াচ্ছে আরো। শেষ ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থেকে গতকাল রাতে প্রিমিয়ার লিগে লেস্টার সিটির মুখোমুখি হয়েছিল তারা। এর আগে কোচ ক্লপ দলের ভয়ডরহীন মানসিকতার তারিফ করেন।
সাবেক বরুসিয়া ডর্টমুন্ড কোচ বলেন, ‘চলতি বছরে আমি তাদের অনেক সময়ই শক্ত মানসিকতাসম্পন্ন দানব বলেছি। কারণ তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পারফরম করে গেছে।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও ফাইনাল খেলার নজির ছিল না আর কোনো দলের। বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগটায় তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইটা জিততে সাহায্য করেছিল শক্ত মানসিকতাই, অভিমত লিভারপুল কোচের। তিনি বলেন, ‘এটা বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটায় আরো বেশি সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন তারা শতভাগেরও বেশি দিয়েছিল এবং নিজেদের সামর্থ্যের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিল। তার ফলেই বিশেষ কিছু অর্জন সম্ভব হয়েছিল।’
ক্লপ চলতি বছরের দলের পারফরম্যান্সটাকে দারুণ কিছুই বললেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাকে আপনারা এতদিনে যথেষ্ট চিনে গেছেন। পেছনে ফিরে দেখার মানুষ আমি নই, অন্তত কাজের সময় তো নয়ই। কিন্তু এ বছরটায় যা হয়েছে তা অবহেলা করা অসম্ভব। আমি কেবল একটা কথাই বলতে চাই-অসাধারণ।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন বাঁচব ততদিন আমি মাদ্রিদের রাতটা এরপর লিভারপুলের সকালটাকে ভুলব না। একবার আমি বলেছিলাম শিরোপা জিতলে শহরটা আনন্দে ফেটে পড়বে। আমি সম্ভবত কিছুটা কমিয়ে বলেছিলাম। দৃশ্যগুলো মনে করতেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।’
এমন দলের কোচ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবানই ভাবছেন ক্লপ। জার্মান কোচের ভাষ্য, ‘২০১৫ সালের ৮ অক্টোবরে যে বিশ্বাসটা নিয়ে তারা আমাকে দলের কোচ করেছিল সেদিন যখন বাসের সামনে দাঁড়ানো সমর্থকদের চোখে তাকাচ্ছিলাম তখন সে বিশ্বাসটাই দেখতে পাচ্ছিলাম। এ ক্লাব এই পরিবারের একটা অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই খুব গর্বিত।’
ইত্তেফাক/এএম
