মিঞা শোভনের পাঠশালা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৫

মিঞা শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক পরিচিত মুখ। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স করে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন মিঞা শোভনের পাঠশালা (মিশোপা)। তার স্বপ্ন এই পাঠশালা একদিন একশ একরের ক্যাম্পাসে পরিণত হবে, যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় জ্ঞান সাধনা করবে। পাশাপাশি এই পাঠশালার আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করাও সম্ভব বলে মনে করেন মিঞা শোভন।

প্রথাগত চাকরি কিংবা নিশ্চিত জীবনের পথে না হেঁটে ঝুঁকিপূর্ণ এই স্বপ্নের পিছনে ছুটে বেড়ানোতে অনেকেই বাহবা দিলেও নিন্দুকের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয় মিঞা শোভনের। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে দাপিয়ে বেড়ান সবাইকে তার পাঠশালার সদস্য বানানোর উদ্দেশ্যে। অনেকে সদস্য হয়, আবার অনেকে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে কিংবা উপহাসের দুএকটি বাক্য শুনিয়ে চলে যায় নিজের পথে। কিন্তু মিঞা শোভন দমবার পাত্র নন। তিনি বলেন, আমার জীবনটা এই সংগঠনের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমার জীবনটা শেষ হয়েও যদি এই সংগঠনটা প্রতিষ্ঠিত হয়, একটা একশ একরের ক্যাম্পাস হয়, তাহলে আমি তৃপ্তি পাব। সেই ক্যাম্পাসে লাইব্রেরি থাকবে, প্রকৃতি থাকবে, সুস্বাস্থ্য থাকবে আর থাকবে আমাদের মিশোপার স্লোগান-জ্ঞান আনন্দ সত্য সুন্দর প্রেম।

মিশোপার কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে মিশোপা। সংগঠনের মূল কার্যক্রম এখন পর্যন্ত ৩টি—লাইব্রেরি কার্যক্রম, পাঠচক্র কার্যক্রম, আলোচনা কার্যক্রম। আবার লাইব্রেরি কার্যক্রমের দুটি ধরন আছে, প্রাথমিক লাইব্রেরি কার্যক্রম খেয়া, উচ্চতর লাইব্রেরি কার্যক্রম কিশতি। শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবী যে কেউ চাইলে মাত্র ৩০০ টাকা ফি আর একটা ফর্ম পূরণ করেই হতে পারেন আজীবনের জন্য মিশোপার মেম্বার। এরপর প্রতি বইয়ের জন্য ১০ টাকা ফি দিয়ে ধার নিয়ে পড়তে পারবেন। মিঞা শোভন জানান, আমাদের লাইব্রেরিতে সদস্য আছে ২৬৫০ জনের মতো। বই আছে প্রায় তিন হাজার। ১০০ একর ক্যাম্পাসের স্বপ্ন কিন্তু এখন আর আমি একা দেখি না, এই স্বপ্ন ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের সব সদস্যরাই এখন এ স্বপ্ন দেখি।