পর্যটন আকর্ষণে নয়নাভিরাম সাজেক

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৪৯

 

সাজেককে মেঘপুরীর

উপত্যকা বলা যায়।

দিন দিন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাজেকের যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করতে হবে

g আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

প্রকৃতি বাংলাদেশকে অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে। প্রকৃতির এমন এক অর্পূব স্থান হচ্ছে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকার পর্যটন স্পট সাজেক। সাজেককে বলা হয় দৃষ্টিনন্দন এবং মন হরণকারী অপরূপা এক গ্রিন ভ্যালি। সাজেকের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরের ইউনিয়ন। বাঘাইছড়ি উপজেলায় এর অবস্থান। বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে এর দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। এর আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সাজেকের উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট। খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৬৭ কিলোমিটার আর রাঙ্গামাটি শহর থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সাজেকের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ভারতের মিজোরাম সীমান্ত। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াতসুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। পথে পড়বে ১০ নম্বর বাঘাইহাট পুলিশ এবং আর্মি ক্যাম্প। এখান থেকেই সাজেক যাওয়ার মূল অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেওয়ার পর পাহাড়ি চাঁদের গাড়ি (জিপ) করে সাজেক যেতে হয়।

সাজেক যাওয়ার পথে দুই পাশে দেখা যাবে সবুজ বন আর কাসালং নদী। তারপর ধীরে ধীরে সাজেকের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যাবে। সাজেক পৌঁছার পর দেখা যাবে ছিমছাম পরিপাটি সুন্দর একটি পরিবেশ। এখানে রয়েছে সুপ্রশস্ত রাস্তা। শহরের আদলে তৈরি পরিচ্ছন্ন এবং পরিপাটি ফুটপাত। পথের পাশে পাহাড়িদের বাড়িঘর নান্দনিকভাবে সাজানো। আদিবাসী অধ্যুষিত ছোটো কোনো এক শহর। পর্যটকদের জন্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অল্প খরচে থাকার জন্য রয়েছে কাঠের তৈরি ছোটো পরিসরের রিসোর্ট। এছাড়া সেনাবাহিনী ও বিজিবি পরিচালিত উন্নতমানের রিসোর্ট রয়েছে। এগুলো আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়।

সাজেকের শেষ গ্রামের নাম হচ্ছে কংলাকপাড়া। কংলাকের পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাজেক উপত্যকা চমত্কারভাবে দেখা যায়। পাহাড়চূড়ায় প্রথমে উঠতে ভয় হলেও পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারলে ভয় দূর হয়ে যায়। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সাজেকের পুরো সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। একসময়ের দুর্গম সাজেক এখন এ দেশের দার্জিলিং।

তুলার মতো দলছুট মেঘ এসে এক স্বপ্নরাজ্য   সৃষ্টি করে। তাই সাজেককে মেঘপুরীর উপত্যকা বলা যায়। দিন দিন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাজেকের যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করতে  হবে। পর্যটকদের জন্য উন্নতমানের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

ছবি : ইন্টারনেট