একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
৭১’এর গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক, আগুনসন্ত্রাসী এবং তাদের দোসরদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি। বিএনপি-জামায়াতকে বর্জন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করারও আহ্বান জানান তারা। গতকাল বুধবার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তারা। শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রা’ শীর্ষক এই আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য কাজল দেবনাথ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, ঘাতক- দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।
রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াত যদি আবারো ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশে বড় ধরনের একটি সংঘাতের সৃষ্টি হবে। দেশে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে তা বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২২টি আসনে জামায়াতকে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে উপহাস করা হয়েছে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, সারাদেশের ৬১টি নির্বাচনী এলাকা সংখ্যালঘুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেসব এলাকায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য আমরা সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবী ও চিকিত্সকদের নিয়ে আমরা কমিটি গঠন করেছি যাতে যেকোনো সময় তারা সংখ্যালঘুদের আইনি সহায়তা ও চিকিত্সা দিতে পারে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের প্রসঙ্গ টেনে শাহরিয়ার কবির বলেন, এই আইনটির প্রয়োগে সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘুরাও তাদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার বিবরণ তুলে ধরেন।
আতিউর রহমান ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান রাখার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের দোসর বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ‘শব্দের ষড়যন্ত্রে’ মেতেছে। কারণ তাদের মধ্যেই যুদ্ধাপরাধীরা বাসা বেঁধে আছে। কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। সংখ্যালঘুরা যাতে নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এজন্য আমি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শাহরিয়ার কবির নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ভুলি নাই’ প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত গণহত্যা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ভিকটিম সংখ্যালঘুদের ভাষ্য এবং বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য স্থান পেয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রটিতে। এতে উঠে এসেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার লোমহর্ষক চিত্র।
