২১৯*
বাংলাদেশের পক্ষে এখন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এই ইনিংসটা মুশফিকুর রহিম খেললেন এমন একটা সময়ে, যখন তাকে নিয়ে আলোচনাটা সবে জমে উঠেছিল।
মুশফিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক। একাধারে উইকেটের পেছনে লম্বা সময় কাটানো ও লম্বা ইনিংস খেলাটা কঠিন। এই কারণে কুমার সাঙ্গাকারার মতো অনেকেই কিপিং ছেড়ে দিয়েছেন। সেই চাপ ছিল মুশফিকের ওপর। অবশেষে বেশ কিছুদিন হলো মুশফিককে চাপমুক্ত করা হয়েছিল। লিটন দাসকে উইকেটের পেছনে পাঠিয়ে মুশফিককে চার নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার, তিনি সেখানে নিজেকে খুঁজেই পাচ্ছিলেন না। অবশেষে এই টেস্টে আবার ফিরে পেয়েছেন উইকেট কিপিং গ্লাভস এবং ব্যাট করছেন পাঁচ নম্বরে। সাথে সাথেই মুশফিক প্রায় দুই বছর পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর সেই সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছেন গতকাল। সেই সাথে সাকিব আল হাসানকে টপকে হয়ে গেছেন দেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক।
২১৭
সেটা ছিল মহাকাব্যিক এবং ধ্বংসাত্মক ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ তখন খাবি খাচ্ছিলো। নিউজিল্যান্ডের ওই বিরূপ কন্ডিশনে ওয়েলিংটন টেস্ট বাংলাদেশ ভালোই শুরু করেছিল। তামিম ও মুমিনুল ফিফটি করেছিলেন। কিন্তু সাকিব ও মুশফিক নিজেদের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন এই ম্যাচের জন্য। দুজনে পঞ্চম উইকেটে দুজনে ৩৫৯ রান যোগ করেন। দুজনের জুটিতে সাকিব আল হাসানই ছিলেন বেশি ধ্বংসাত্মক। শেষ পর্যন্ত ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে গিয়েছিলেন। আর থেমেছিলেন গিয়ে ২১৭ রানে। তামিম ইকবালের ২০৬ রানকে টপকে গতকালকে আগ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক।
২০৬
এর দুই বছর আগে মুশফিকুর রহিম দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। সেটাই তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল। কিন্তু খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম সেই রান টপকে গেলেন।
এই ইনিংসটা ছিল বাংলাদেশের মহাকাব্যিক এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৩২ রান। জবাবে পাকিস্তান ৬২৮ রান করেছিল। এই ম্যাচে ইনিংস পরাজয়টাও অসম্ভব ছিল না। কিন্তু তামিম ও ইমরুল রেকর্ড এক জুটি করলেন উদ্বোধনী উইকেটে। বাংলাদেশের তখনকার যে কোনো উইকেটের সর্বোচ্চ ৩১২ রান যোগ করলেন দুজন। ইমরুল কায়েস ১৫০ রান করে আউট হলেন। আর তামিম ইকবাল ২৭৮ বলে ২০৬ রানের এক ইনিংস খেললেন।
২০০
সেটা ছিল গেল টেস্টে রান উত্সবের এক ম্যাচ। শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৫৪০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশও এর জবাবে রানের বন্যা করলো। মোহাম্মদ আশরাফুল হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। কিন্তু তিনি ১৯০ রান করে আউট হয়ে গেলেন। আর সেই হতাশার ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০০ রানের ইনিংস খেলে ফেললেন।
