‘উন্মুক্ত স্থান, বাসার ছাদে থার্টি ফার্স্ট নাইটে অনুষ্ঠান নয়’

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩

বিশেষ প্রতিনিধি

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উত্সব ‘বড়দিন’ ও ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’কে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকায় ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে, বাসার ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। গতকাল বুধবার ডিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত সমন্বয় সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ নির্দেশনা দেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর এলাকায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ৬৮টি চার্চে বড়দিনের ধর্মীয় উত্সব পালিত হবে। বড়দিনের অনুষ্ঠান নিরাপদে সুন্দরভাবে করতে রাষ্ট্র সব ধরনের নিরাপত্তা দেবে। অনুষ্ঠানস্থলে অপরিচিত ও সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি দেখলে পুলিশকে জানাবেন। প্রত্যেকটি চার্চে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রতিটি চার্চে আর্চওয়ে থাকবে। আর্চওয়ে দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে চার্চে ঢুকতে দেওয়া হবে। তল্লাশির ক্ষেত্রে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। অনুষ্ঠানস্থল ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। নিরাপত্তায় থাকবে ফায়ার টেন্ডার ও অ্যামু্বলেন্স ব্যবস্থা। থাকবে চার্চ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ব্যবস্থা। আতশবাজি পরিপূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। চার্চ এলাকায় কোনো ভাসমান দোকান বা হকার থাকতে দেওয়া হবে না। কোনো প্রকার ব্যাগ, ট্রলিব্যাগ ও ব্যাগপ্যাক নিয়ে চার্চে আসা যাবে না।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমাদের অনেক সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে কোনো কুচক্রী মহল কোনো ধরনের সুযোগ নিতে না পারে।

থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইংরেজি নববর্ষ থার্টি ফার্স্ট নাইট পালনে নিষেধাজ্ঞা আছে। কোনো উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির ছাদে কোনো সমাবেশ, গান-বাজনা করা ও আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকেই নগরীর সকল ধরনের বার বন্ধ থাকবে। যেকোনো ধরনের ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরালো রয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আইডি কার্ড ব্যতীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে ঢাবি’র স্টিকার থাকতে হবে। বহিরাগত কেউ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকলে প্রক্টরিয়াল বডিকে তাকে বের করে দেওয়া নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানান তিনি।