জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, তথাকথিত নির্বাচনে আপনারা যদি ৩০০ সিট চান, তাহলে বলেন আমরা দিয়ে দেই! আপনারা আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন এটাতো বলেই যাচ্ছেন। এভাবে চাওয়ার থেকে আমাদের কাছে বলে নিয়ে যান। তিনি বলেন, এভাবে নির্বাচনের নামে প্রহসনের মধ্য দিয়ে ৩০০ লোককে নির্বাচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসির উদ্দেশে ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার নির্বাচন কমিশনকে রক্ষা করতে হবে। এটা আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার যদি কোনো সংবিধান পরিপন্থী কাজ করে, এর থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করুন। নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতার প্রয়োগ করলে ভালো নির্বাচন হবে, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হবে।
৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ও ৪৭তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘মানবাধিকার, সুশাসন ও ভোটাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন, ক্ষমতায় থেকে এখন যা করছেন তা সংবিধান পরিপন্থী। বিনাকারণে পুলিশ মানুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে পুলিশকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এ ধরনের অবস্থা কোনোদিন দেখিনি। এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা পুলিশের নাই। এটাকে যদি সুশাসন বলা হয় তাহলে মিথ্যা বলা হবে। এ ধরনের শাসন কোনোদিন দেখিনি। আজকে কেউ যদি দাবি করে, এদেশে সুশাসন আছে তাহলে আমি বলব, সে মিথ্যুক। তিনি বলেন, উচিত কথা বলছি, এজন্য আমাকে ধরে নিয়ে যান। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েও একথা বলব। পুলিশকে যদি আপনারা এভাবে অপব্যবহার করতে থাকেন, বিশ্বাস করেন আমার কি হয় না হয় সেটা না, আপনাদের বিচার হবে, শাস্তি হবে। এখানে যদি কোনো কারণে পার পেয়ে যান, পরকালে কেউ পার পাবেন না সেটা মনে রাখবেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান। বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজুমল আহসান কলিমুল্লাহ প্রমুখ।
‘আমি বিএনপির লোক নই’
এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেকে আমাকে বিএনপির লোক বলে মন্তব্য করেন। আমি তো আওয়ামী লীগের মূল লোক ছিলাম। ৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর এজেন্ট ছিলাম। সেইসময় মানুষের দ্বারে-দ্বারে গিয়েছি। রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখনও সেই পরিবর্তন চায়। আমি বিএনপির লোক নই। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের জন্য একত্রে ভোটের মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, কূটনীতিকদের আমরা আমাদের যেসব অবজারভেশনের কথা জানিয়েছি, তার সঙ্গে তাদের দূতাবাসগুলোর অবজারভেশন মোটামুটি একইরকম। এ কারণে তাদের খুব একটা প্রশ্ন করতে হয়নি আমাদের। আমরা কূটনীতিকদের বলেছি-দেশের মানুষ খুব আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নির্বাচন চেয়েছিল, কারণ তারা পরিবর্তন চায়। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, গত দুই সপ্তাহ ধরে পুলিশ খুব অসাধারণভাবে তত্পর সব জায়গাতে। এর আগে এত পুলিশকে রাস্তায় টহল দিতে দেখিনি। কাউকে দেখলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে তারা চাচ্ছে, বিরোধী দলের লোকগুলো নির্বাচনে না আসুক। এতে নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারি দলের পক্ষে সহজ হবে।
