কর্কট রাশি Cancer

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৩৭

 [ ২১ জুন - ২০ জুলাই ]

শাসক গ্রহ :চন্দ্র

শুভ সংখ্যা :২

বৈশিষ্ট্য :পানি

রং :হালকা সবুজ, ক্রিম, কমলা ও সাদা

ধাতু :রুপা ও প্লাটিনাম

রত্ন :পান্না, মুন্না ও মুনস্টোন

শুভ দিন :সোমবার

সঙ্গী/সঙ্গিনী :মীন, বৃশ্চিক, বৃষ

 

বিখ্যাত ব্যক্তি

জ্যোতি বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বাদশাহ হোসেন, সুফিয়া কামাল, জাঁ পল সার্ত্রে, পাবলো নেরুদা,  ড. মো. শহীদুল্লাহ, সুনীল গাভাস্কার, আবদুল্লাহ্ আল-মামুন. কাজী আনোয়ার হোসেন, আল মাহমুদ, ফেরদৌসি মজুমদার, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, মাহফুজ আনাম।

 

জে নে  নি ন  আ প নি  কে ম ন  ক র্ক ট

বৈশিষ্ট্য

প্রতীক :কাঁকড়া, প্রচারক বা শিক্ষক

জলীয় বৈশিষ্ট্য :সহানুভূতিশীল, অনমনীয়, ধৈর্যশীল, স্পর্শকাতর, পরিবর্তনীয়, সহজে প্রভাবিত।

ব্যক্তিত্ব :মেজাজি, সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল,

ধৈর্যশীল, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, যত্নবান, মধ্যপন্থী।

গ্রাম কিংবা শহর থেকে দূরে কোনো নিরিবিলিতে পরিষ্কার আকাশের নিচে চাঁদের আলো উপভোগ করার অনেক উদাহরণ দেখা যায় কর্কটদের মাঝে। কর্কটের হাসি পাগল করা। আর এ হাসি অব্যর্থভাবে সংক্রামক। কর্কট যখন সমাবেশে কেন্দ্র হওয়ার ভাবাবেগে থাকে, তখন তাকে চিনে নেওয়া যায় সহজে। জীবনকে পুরোপুরি উপভোগের সবগুলো পথ হয়তো কর্কটই সবচেয়ে ভালো জানে। অন্য কোনো রাশিই কর্কটের মতো এতটা কৌতুকপ্রিয় নয়। আর তার শান্ত, সুবোধ বহিরাবরণ ভেদ করে মজার মানুষটা যদি একবার দুঃসাহসিকভাবে জেগে ওঠে, তাহলে তো কথাই নেই। চন্দ্রীয় রসিকতাবোধ সব সময়ই গভীর। এটা কখনই সস্তা কিংবা অতিরঞ্জিত নয়, কেননা মানুষের আচরণের সূক্ষ্মতম পর্যবেক্ষণে এই রসিকতা তারা করে। যদিও কর্কটকে প্রথম দেখাতে মনে হতে পারে, সে আর ১০ জনের মতো সবার সঙ্গে গা ভাসাতে চায়, কিন্তু আসলে গোপনে গোপনে কর্কট মনোযোগ প্রত্যাশা করে। আর শিরোনাম হওয়ার সুযোগটাও ঠিকই লুফে নিতে চায়। কারো যদি সহজেই ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে বিষণ্ন মেজাজের কোনো কর্কটের কাছে যাওয়ার আগে তার মলিনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটা রেইনকোট পরে নিন। কর্কট আপনাকে শোকের ভেজা কম্বলে জড়িয়ে ফেলবে, আর সেটার মধ্যেই আটকে রাখবে, যতক্ষণ না আপনি শীতে কাঁপতে শুরু করেন। কর্কটের বিষণ্নতা খুবই গভীর। কর্কট তার স্বাভাবিক ভয়-ভীতিগুলো তার দুষ্টুমিভরা পাগলামি আর কৌতুক দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখে। কিন্তু তারপরও সেই ভয়গুলো দিনে কি রাতে তার মনের মধ্যে অনর্থক কোনো আশঙ্কা কিংবা নামহীন বিপদের শঙ্কা হয়ে ছায়ার মধ্যে জেগে থাকে। কর্কটরাই পারে কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে সবচেয়ে সুন্দর কোনো স্বপ্ন নিয়ে তারাদের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে।

প্রত্যেক কর্কটেরই অভিব্যক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে একটা বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে। আর কল্পনার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ এতই মাধুর্যময় আর তাদের ভাবাবেগও এতই তীব্র যে তারা আপনাকেও কল্পনার জগত্টা দেখিয়ে দিতে পারবে। তার দ্রুত স্মৃতিচারণক্ষম মস্তিষ্ক এই অনুভূতিগুলো সহজেই খুঁজে নেয়। আয়না কিংবা ক্যামেরার মতোই তারা ছবিগুলোকে সঠিকভাবে মনের মধ্যে ধরে রাখে, আর বিশ্বস্তভাবে সেগুলো উপস্থাপন করে। জীবন তাদের যা কিছু শিখিয়েছে, কিংবা ইতিহাস মানবজাতিকে যা কিছু শিখিয়েছে, তার কোনোটাই তারা ক্ষণিকের জন্য বিস্মৃত হয় না। কর্কটেরা প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতো মানসিকতার গভীর থেকে গভীর পর্যন্ত শুধু অদ্ভুত সুন্দর সবকিছু খুঁজে চলে।

 

বি শে ষ জ্ঞে র  চো খে  কে ম ন  যা বে  আ প না র  ২ ০ ২ ০

বছরের শুরুতে জলজ রাশি কর্কটে শুক্রের দৃষ্টি আছে। ফলে রোমান্টিক বিষয়াদির জন্য বছরটি শুভ সম্ভাবনাময়। তবে এপ্রিল থেকে শনি ও মঙ্গল কর্কটে দৃষ্টি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃহস্পতির দৃষ্টিও রয়েছে। ফলে এ সময় শরীর-স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কর্কট রাশির সবারই সতর্ক থাকা উচিত। কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকবে বলে আশা করা যায়। ধনস্থানে নেপচুনের দৃষ্টির ফলে বছরের অধিকাংশ সময়েই আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় অর্থনষ্টের আশঙ্কা আছে। দশমে তথা কর্মস্থানে সারা বছরই ইউরেনাস অবস্থান করবে। ইউরেনাস সব সময়ই শুভাশুভ অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারক হয়ে থাকে। যার ফলে কর্মপরিবেশ অনুকূল থাকলেও মাঝেমধ্যে কর্মস্থলে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির উদ্ভবও হতে পারে। পিতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও হঠাত্ কোনো জটিলতা দেখা দিতে পারে। মায়েরও রক্তচাপজনিত কোনো সমস্যার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষত, বছরের শেষ দিকে মায়ের হূদযন্ত্রের দুর্বলতাজনিত কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সময়ে স্বামী বা স্ত্রীর শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। বেকারদের কারো কারো হঠাত্ কর্মপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। বছরের শেষ দিকে বিদ্যার্থীদের পড়াশোনায় অধিকতর মনোযোগী হতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ নাও হতে পারে। এপ্রিল থেকে বছরের অবশিষ্টাংশে দাম্পত্য ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবঝির আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক থাকা উচিত।