আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণ চরম হতাশ হয়েছে। এতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলা নেই। এ ছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা তরুণদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন। তাই দেশবাসী বিএনপির অবান্তর ও কল্পনাপ্রসূত ইশতেহার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এ কথা বলেন।
নানক বলেন, ‘দেশবাসী জানে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। হত্যা-সন্ত্রাস, সংখ্যালঘু নির্যাতন, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি উঠবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সমৃদ্ধ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন সুদূরপরাহত হবে। তাই আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা বিএনপিকে আহ্বান জানাব, আপনারা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসুন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রাজনীতি গ্রহণ করুন। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘তরুণদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির কথা বলেছে। কিন্তু বিএনপি তাদের ইশতেহারে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও মেধাবী তরুণদের সাথে প্রহসন মাত্র। সস্তা জনপ্রিয়তায় বিএনপির প্রতিশ্রুতি দেশের তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। বয়সসীমা নিয়ে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি পৃথিবীর কোথাও নেই। এতে করে দেশে বেকারকত্বের সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, ‘একজন দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান বানাতে, যারা রাতের অন্ধকারে তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে পারে, সে দলের মুখে দুর্নীতি, অর্থ পাচার রোধের অঙ্গীকার হাস্যকর।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সবুর, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মাহরুফা আখতার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
