মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিগন্ত জুড়ে সরিষা খেতের ফুলের গন্ধে চলছে মৌচাষিদের মধু আহরণ। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চাষিরা সরিষা খেতের পাশে বাক্স বসিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার ভাওড়া, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, বানাইল, আনাইতারা, বহুরিয়া, ফতেপুর, জামুর্কি ও লতিফপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে, দিগন্ত জুড়ে সরিষা খেতে মৌয়ালরা সারি সারি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মৌচাষি সালাউদ্দিন ও কুষ্টিয়া থেকে আসা আবু আব্বাছ মিয়া বলেন, বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিবছর শীত মৌসুমে মির্জাপুর এসে তারা সরিষা খেতের পাশে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। সরিষা খেতের মধু বেশ ভালো এবং উন্নতমানের। প্রতি কেজি মধু বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। লাভও মোটামুটি ভালো হয়। তবে এ বছর কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে তাদের মধু আহরণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন বলে উল্লেখ করেন।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় ৮ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় উত্পাদন কিছুটা কম হয়েছে। তবে সরিষা খেতের আশপাশে মৌচাষিদের বাক্সে মধু আহরণ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
