চট্টগ্রামে একাধিক আসনে নবীন প্রবীণের লড়াই

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫৮

সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও আশপাশের উপজেলায় নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। সর্বশেষ গতকাল ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচিতি সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্সবের নগরীতে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় রয়েছে জেলার একাধিক আসনে অভিজ্ঞ, প্রবীণ রাজনীতিকের সঙ্গে নবীন প্রার্থীর লড়াই।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম-১) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছয়বারের সংসদ সদস্য। এরমধ্যে সর্বশেষ টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপ্রি প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম-২) আসনে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী গত সংসদ এবং এর আগে আরো এক সংসদে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. আজিম উল্ল্যাহ বাহার নির্বাচনের মাঠে একেবারেই নবাগত। সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম-৪) আসনে বয়সে তুলনামূলক নবীন হলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিদারুল আলম ইতোমধ্যে সংসদে   প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবার নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. ইসহাক চৌধুরী বয়সে প্রবীণ হলেও নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন প্রথমবার।

রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঝানু রাজনীতিক এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী গত তিন সংসদে এমপি। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নবাগত প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার। যিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। চাঁন্দগাও-বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম-৮) আসনে মহাজোট প্রার্থী মঈনউদ্দিন খান বাদল প্রবীণ রাজনীতিবিদ। ইতোমধ্যে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি। তার এবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রথমবার নির্বাচনে নামা বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান। পটিয়া (চট্টগ্রাম-১২) আসন থেকে গত দুই সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন নৌকার প্রার্থী সামসুল হক চৌধুরী। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. এনামুল হক এবার প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন। প্রবীণ ও নবীনের এই লড়াই নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে খুবই হালকাভাবে দেখছেন ভোটাররা। যদিও অনেকে এ বিষয়ে একমত হতে নারাজ। একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপির এক নবাগত প্রার্থী ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীর ওজনের চেয়েও দলীয় প্রতীককে বেশি বিবেচনায় রাখে। ফলে প্রার্থীদের তুলনা না করে দলীয় প্রতীকের ওপর ভোটাররা জোর দিবেন। তবে সরকারি দলের একাধিক প্রার্থী বলছেন, প্রতীকে জোর দিলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে জিতবে। কারণ, মানুষ এখন বিশৃঙ্খলা চায় না। উন্নয়ন চায়। একটু ভালো থাকতে চায়।