কখনো ডিবি পুলিশ, কখনো ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মানবাধিকার কর্মী আবার কখনো নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ও ভয় ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল একটি প্রতারক চক্র। মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকার জামসিং মহল্লায় এক বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও এক নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পুলিশ এই কুখ্যাত চাঁদাবাজ ও প্রতারক চক্রের মূল নায়ক মফিজুর রহমান সোহেল এবং তার ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত ৪ জন সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দয়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদেরকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ চক্রের আরো ৮ সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের পুলিশ খুঁজছে। আটক চারজন হলো- গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার জোতকুড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ মোল্লার ছেলে মফিজুর রহমান সোহেল (৩৮), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার হরিদাসপুর গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে মবিনুর রহমান রবিন (৩৩), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বুজরুক বোয়ানিয়া গ্রামের মোঃ আবুল কালামের ছেলে মোঃ নাজমুল হাসান (২৩) এবং লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার চর আলগী গ্রামের এইচ এম হকের এইচ এম আতিক (৪৪)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ভাটপাড়া মহল্লার রিপন তালুকদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের বাসায় প্রবেশ করে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে মফিজসহ ১১ জন প্রতারক। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা তাদের ছবি তুলে এবং ভিডিও করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই বাড়িতে থাকা দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়েকে লাঞ্ছিত করে তারা। পরে তার চিত্কারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে প্রতারকদেরকে আটক করে। খবর পেয়ে সাভার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় বাড়ির গৃহকর্তা ব্যবসায়ী মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৭ জনের নামে বুধবার সকালে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটক ৪ জন ছাড়াও মোঃ মেহেদী, মোঃ ইব্রাহীম খলিল, সাইদুর রহমান বকুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান, গ্রেফতারকৃত মফিজুর রহমান সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতারকচক্রটি নিজেদের সিএনএন বাংলা, দৈনিক সন্ধ্যাবাণীসহ একাধিক মিডিয়ার পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।
