টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা দুইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এর আগে সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তিন সদস্যের চিকিত্সক দল লতিফ সিদ্দিকীর অনশনস্থল টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িতে হামলার অভিযোগে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারের ছেলে সালাহউদ্দিন তালুকদার, একই এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার আকন্দের ছেলে মারুফ হোসেন আকন্দ, হাজী ইমান আলী প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল লতিফ প্রামাণিক ও আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ইছাপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, চিকিত্সকরা স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাইলে প্রথমে তিনি রাজি হননি। পরে তাকে বোঝানোর পর তিনি হাসপাতালে যেতে রাজি হন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা জানান, উন্নত চিকিত্সার জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি ঢাকায় যাওয়ার জন্য বেলা ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। একটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, লতিফ সিদ্দিকীকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ ছিল। কিন্তু তিনি পুলিশ ছাড়াই ঢাকা যেতে চান। পরে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়েই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার চালানোর সময় গত রবিবার তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। হামলার প্রতিবাদ, হামলাকারীদের গ্রেফতার, কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে রবিবার থেকে অনশন শুরু করেন। সোমবার থেকে তিনি আমরণ অনশনে যান।
