আলোচনায় ডাকসু

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

g আরফিন শরিয়ত

 

দীর্ঘ তিন দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দিয়ে আশার আলো দেখিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ডাকসুর জন্য আন্দোলন করলেও কোনো প্রশাসনই দিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচন। নির্বাচন দিয়ে প্রশাসন যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে তেমনিভাবে বিতর্কিত হয়েছে বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে। বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলে রাতভর ভোট কারচুপি, রোকেয়া হলে ট্রাংকভর্তি ব্যালট পেপার পাওয়া নিয়ে শুরু হয় তুমুল হইচই। স্থগিত হয় দুই হলের ভোটগ্রহণ। পরবর্তী সময়ে ভোটগ্রহণ হয় দুই ঘণ্টা পরে।

অপরদিকে, বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফাঁস হয় ছাত্রলীগ মনোনীত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ৩৪ শিক্ষার্থীর বিতর্কিত ভর্তি। প্রশাসনের সহায়তায় দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ অর্ধমাস উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা গড়ে তোলেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ জোট। পাঁচ সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এ জোট।

সহাবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় এ বছর। ছাত্রলীগের বাধার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা না আসতে পারলেও ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের ক্যাম্পাসে আসা কিছুটা সহজ হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করা, কার্যক্রম পরিচালনা এসব করতে পারেনি তারা।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাও আলোচনায় ছিল বারবার। গত বছর তার ওপর হামলা করা হয় ৯ বার। এসব হামলার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না দেওয়া, বিচার না হওয়া, প্রশাসনের নির্লিপ্ত মনোভঙ্গি ছিল আলোচনায়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতেও উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ১ মাস এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ধরনের আন্দোলন চলমান ছিল। আন্দোলনের চাপে সপ্তাহব্যাপী বন্ধ ছিল ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম।

তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় গত এক বছরে ইতিবাচক পরিবর্তনও হয়েছে ব্যাপক। এগুলোর মধ্যে আছে—হল সংসদ নির্বাচন হওয়ায় হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। ভোটের রাজনীতি শুরু হওয়ায় ছাত্র প্রতিনিধিরা বলছে, ডাকসু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে তারা বসার সুযোগ পেয়েছেন।