g সমীর কুমার দে
গেল বছরটিতে দেশ জুড়ে আলোচনায় ছিল ৩টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। এর মধ্যে ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী, বরগুনার রিফাত শরীফ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা-বর্বরতা নিয়ে দেশ জুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। একই সঙ্গে হলি আর্টিজান মামলার রায়টিও ছিল আলোচনায়। আলোচিত এসব বর্বর হত্যাকাণ্ডের পর দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ ঘটনায় বুয়েটের মতো শীর্ষ বিদ্যাপিঠে সব ধরনের রাজনীতিও নিষিদ্ধ হয়।
গত ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে।
বছরের শুরুর দিকে ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ দৌলা যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফির পরিবার মামলা দায়ের করে। এরপর মামলা তুলে নিতে নুসরাত জাহান রাফির পরিবারকে হুমকি দেয় সিরাজের ক্যাডার বাহিনী। স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হলে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতারে বাধ্য হয়। এই মামলায় সিরাজউদ দৌলা কারাগারে থাকা অবস্থায় ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি নিজ মাদ্রাসার কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে অধ্যক্ষের অনুসারীরা তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে হাত পেছনে বেঁধে তার শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় নুসরাত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১০ এপ্রিল মারা যান সাহসী কন্যা নুসরাত।
২৪ অক্টোবর বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ দৌলা ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেতা রুহুল আমিনসহ চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এখন বাকি প্রক্রিয়া শেষে রায় কার্যকর দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।
গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ অনেক মানুষের সামনেই কয়েকজনে মিলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। মিন্নি ঐ কলেজের ছাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আপ্রাণ চেষ্টা করেও হামলাকারীদের দমাতে পারেননি। যদিও পরে পুলিশ জানায় রিফাত শরীফকে হত্যার নেপথ্যে স্ত্রী মিন্নিরও হাত ছিল। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এদিকে গত ২৭ নভেম্বর হলি আর্টিজান মামলার রায়ে ৭ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
