রেকর্ডসংখ্যক নির্বাচন আয়োজন

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৯

g সাইদুর রহমান

 

গত বছরে রেকর্ডসংখ্যক নির্বাচন আয়োজন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি, প্রবাসীদের অনলাইনে ভোটার করা, নির্বাচন ভবনে অগ্নিকাণ্ড, কমিশনে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং ঢাকার দুই সিটির তফসিল ঘোষণা—এসব ছিল বেশি আলোচনায়। বিদায়ি ২০১৯ সালেই ১ হাজার ২৫০টির বেশি সাধারণ ও উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে ইসি।

জাতীয় সংসদের কয়েকটি আসন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেশির ভাগ নির্বাচনেই ভোটার উপস্থিতি ও প্রার্থীসংখ্যা ছিল কম। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকে জয় পান স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচনেও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের ঘটনা কম ছিল না। একদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ইসিকর্মীদের জালিয়াতিতে জড়ানো যেমন সমালোচনায় বিদ্ধ করেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধে ‘বিব্রতও’ হতে হয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটিকে। ভোট শেষে ‘স্বস্তি’ প্রকাশ করেছে ইসি। তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে একজন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সরব।

চলতি বছরে সবচেয়ে আলোচিত ছিল সারাদেশের ৪৮০টির বেশি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। এছাড়া কমবেশি ৭৫০টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ ও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট হয় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ময়মনসিংহ সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদের তিনটি আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিদায়ি বছরের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে। সাবেক মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত ঐ উপনির্বাচনে মো. আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে ৩১ শতাংশ ভোট পড়ে। একই দিন ঢাকা উত্তর সিটির ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদেও ভোট হয়। বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ঐ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এতে ঐ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। অপরদিকে মে মাসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয় ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন। ঐ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ইকরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ হয় ইভিএমে।

বিদায়ি বছরে তিনটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি শূন্য হয়। ঐ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার ছোটো বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি প্রার্থী হন। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে জুনে বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনে উত্তাপ ছড়ায়। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম টি জামান নিকোতাকে হারিয়ে জয়ী হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। আরেক আলোচিত উপনির্বাচন ছিল রংপুর-৩ আসনে। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদের আসনে জয়ী হন তার ছেলে রাহগির আল মাহির সাদ এরশাদ।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতি : এপ্রিল থেকে দেশ জুড়ে শুরু হয় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার এক যুগে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সব সময় সতর্ক অবস্থানে ছিল ইসি। স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের আরো কড়া হুঁশিয়ারি ছিল। গত আগস্টে এক রোহিঙ্গা নারীর এনআইডি পাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হইচই। বেরিয়ে আসে টাকার বিনিময়ে কীভাবে জাল এনআইডি পায় রোহিঙ্গারা। দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামও বেরিয়ে আসে। জালিয়াত চক্রের খোঁজে মাঠে নামে ইসি, পুলিশ, দুদক।