শেয়ারবাজারের প্রধান পুঁজি জ্ঞান

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:২০

পুঁজি দিয়ে শেয়ারবাজারে লাভবান হওয়া যায় না। এখানে প্রধান পুঁজি জ্ঞান। গতকাল গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার সম্পর্কে আর্থিক জ্ঞান (ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি) একেক জনের একেক রকম হতে হয়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান পরিপূর্ণ হলে এ বাজারের স্থিতিশীলতা বাড়বে। বাজারে ম্যানুপুলেশন অনেক কমে যাবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে এ বিএসইসি ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, উদ্যোক্তাদের অনেকদিন অভিযোগ ছিল তারা ভালো প্রাইজ (দাম) পায় না। এজন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে বুক বিল্ডিং সিস্টেম আমরা চালু করেছি। এখন কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল, শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) না দেখে যোগসাজশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি প্রাইস কোর্ড (দর প্রস্তাব) করে তাহলে তো অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। তবে এক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসির পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ পদক্ষেপের কথা বলতে যেয়ে তিনি বলেন, আগে একজন যোগ্য (প্রাতিষ্ঠানিক) বিনিয়োগকারী বুক বিল্ডিংয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ শেয়ার কেনার আবেদন করতে পারতো। এতে ১০ জন মিলে একটি সিন্ডিকেট করে দামে নির্ধারণ করতে পারতো। এখন আমরা দুই শতাংশ করেছি। তার মানে একটি কোম্পানির কাট অফ প্রাইজ নির্ধারণ করতে অন্তত ৫০ জন বিনিয়োগকারীকে কোর্ড করতে হবে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। নিয়ম বহির্ভূত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে যাতে কোনো অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি না হয় সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিব। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করি। আর যারা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের সবাই জবাবদিহিতার আওতায় আসলে সুশাসন নিশ্চিত হবে।

বিএসইসির সীমাবদ্ধতা বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসইসির পক্ষে সব বিষয় দেখা সম্ভব না। সবকিছু যদি আমরা ভেরিফাইড করতে যায়, তাহলে একটি আইপিও আসতে সময় লাগবে ৩ বছর।

পুঁজিবাজারে অনেক সংস্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখন বিভিন্ন ফিক্সড ইনকাম, সিকিউরিটিজ থেকে শুরু করে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, ইসলামিক ও ডেরিভেটিভ পণ্য আনার জন্য কাজ করছি। ২০১৯ সালের মধ্যে আপনারা ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, হেলাল উদ্দিন নিজামী, খোন্দকার কামালুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, পরিচালক রেজাউল করিম, সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সিএমজেএফ সভাপতি বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বাধা দিয়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বিএসইসিতে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, বিএসইসি শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কার্যক্রম তদারকি করে। আর সাংবাদিকরা স্টেকহোল্ডারসহ বিএসইসির কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। বিএসইসি রেগুলেটর হলে গণমাধ্যম সুপার রেগুলেটর। সাংবাদিকদের আকাঙ্ক্ষা তথ্য। এ আকাঙ্খা পূরণের সুযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশের শেয়ারবাজার এখন আন্তর্জাতিক মানের। তাই সাংবাদিকতার মানও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে।