গত সপ্তাহে দেশের আট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মাসুদ পথিক পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘মায়া :দ্য লস্ট মাদার’। একজন বীরাঙ্গনার জীবন, সংসার ও অতীতের গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এটি বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত হয়েছে। শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘ওমেন’ ও কবি কামাল চৌধুরীর কবিতা ‘যুদ্ধশিশু’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা, সংলাপ নির্মাণ ও পরিচালনা করেছেন মাসুদ পথিক।
পরিচালকের ভাষ্য, ‘প্রথম দিকে খুব একটা সাড়া না পেলেও এখন বেশ সাড়া পাচ্ছি। সময়ের কারণে আমরা ঠিকমতো ছবিটির প্রচারণা করতে পারিনি। যদি ঠিকমতো প্রচার করতে পারতাম, তাহলে হয়তো আরো ভালো চলত ছবিটা। তবে হল থেকে পজিটিভ রিপোর্ট পাচ্ছি। ভালো-মন্দ যাচাই করার জন্য আগে দর্শককে সিনেমা হল পর্যন্ত আসতে হবে। সিনেমা দেখার পর সেটা নিয়ে আলোচনা কিংবা সমালোচনা হোক। এই শীতের সময়ে কোনো ছবির শো কিন্তু এতটা হাউসফুল হয় না। তবে দর্শক একটু একটু করে বাড়ছে। আর আমাদের ছবির গল্পটা খুবই রিয়েলিস্টিক। যারা আসলে এই বিষয়গুলো বোঝে, যেই গল্পটা নিয়ে ছবি নির্মাণ করেছি, তারা কিন্তু আসছে ছবিটা দেখতে।’
বছরের শেষ দিকে তো তেমন কোনো ছবি ছিল না। সেদিক থেকে আপনার সিনেমা খুব কম হল পেয়েছে। এর কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্মাতা বলেন, ‘হল পাওয়ার বিষয়টা তো আসলে পরিবেশনার ব্যাপার। আমরা আসলে পরিবেশনাটা ঠিকমতো করতে পারিনি সত্যি বলতে। তবে এটা নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না। যেই কয়েকটা হল পেয়েছে, সেটাও অনেক। যারাই ছবিটা দেখছেন, তারাই প্রশংসা করছেন। এখন যেহেতু একটু একটু সাড়া পাচ্ছি। পরবর্তী সপ্তাহে আরো কিছু হল বাড়বে বলে আশা করছি।’
‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’ সিনেমাটি দুটি শিল্পকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত; প্রথমটি হলো কবি কামাল চৌধুরীর কবিতা ‘যুদ্ধশিশু’, দ্বিতীয়টি বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘নারী’। এই দুই বিষয় থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীকালে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে গবেষণা করেন। পুরো কাজটা নিশ্চয় সহজ ছিল না? তিনি বলেন, ‘একটি চিত্রকর্ম ও কবিতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে সেটা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই কাজটা করা। এটা আমাদের বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের গল্প, তবে সমসাময়িক। এখানে বীরাঙ্গনারা কেমন আছেন, যুদ্ধশিশুদের পারস্পরিক জায়গাগুলো কেমন, এখনকার সমাজব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে কি না, তাদের প্রেম-কামনা—সবকিছুই এই সিনেমার মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছি। আর্টিস্টিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। খুবই বাস্তবসম্মতভাবে ভিজ্যুয়ালাইজেশন করেছি। কাজটা অবশ্যই সহজ ছিল না।’
নির্মাতা দর্শকদের সিনেমা দেখতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘আমি চাই দর্শকেরা সিনেমা হলে আসুক। আমি বিশ্বাস, তারা প্রতারিত হবে না। ছবির গল্পের কাহিনির সঙ্গে দর্শকেরা নিজেদের মেলাতে পারবেন। দেখার পর মনে হবে, এটা তো আমার গল্প, আমার চেনা গল্প।’
