প্রায় দেড় যুগ ধরে গানে গানে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে শ্রোতাদের ধারাবাহিকভাবে উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু শ্রুতিমধুর গান। বলছি ‘রেশমি চুড়ি’ খ্যাত সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনার কথা। ছোট্ট আলাপচারিতায় সময় দিয়েছেন বর্তমানে সিনেমার গানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই কণ্ঠশিল্পী। তাকে নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর
নিয়মিত স্টেজ ও টিভি শো করছেন। চলচ্চিত্র ও অডিও প্রতিষ্ঠানের গান করছেন। এত ব্যস্ততার মধ্যে সবকিছু কীভাবে সামলান?
এ সবকিছুই আমার কাছে কাজ। শুধু সময়টা একটু মেইনটেইন করি। একটু হাঁসফাঁস লাগে, তবুও চেষ্টা করি কাজটা ভালোভাবে করার। যখন ঢাকার বাইরে শো থাকে, তখন রেকর্ডিংগুলোর সময় একটু এদিক-সেদিক হয়ে যায়। তাই যেদিন ফ্রি থাকি, সেদিন দুই-তিনটা রেকর্ডিং একসঙ্গে করতে হয়।
একসময় রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কনক চাঁপা চলচ্চিত্রের গানে নিয়মিত ছিলেন। তাদের গান এখনো মানুষের মুখে মুখে। আর বর্তমানে চলচ্চিত্রের গান মানেই কনা। এটা কতটা উপভোগ করেন?
চলচ্চিত্রের গান মানেই কনা, এটা ভুল। আমি ছাড়াও অনেকেই চলচ্চিত্রে গাইছে। হয়তো আমার দুয়েকটা গান একটু বেশি জনপ্রিয় হয়েছে, তাই পরিচালকেরা আমার প্রতি একটু বেশি আগ্রহ দেখায়। রুনা লায়লা ম্যাডামরা যখন নিয়মিত গাইতেন, তখন অনেক সিনেমা হতো, এখন সেটা কমে গেছে। যদি আমার রেকর্ডিং হিসাবে করি, তাহলে দেখব, আগে আরো বেশি সিনেমায় গাইতাম। তবে বেশ উপভোগ করি, যখন দেখি, আমার গান শ্রোতারা আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করছে। এটা আমার সৌভাগ্য। আরেকটা বিষয় খুব ভালো লাগে, যখন স্টেজে উঠে সিনেমার গান গাই, তখন আমার সঙ্গে সঙ্গে ছোট বাচ্চারাও গায়। মনে হয়, হয়তো কিছু ভালো গান করেছি। কারণ বাচ্চারা তো এতকিছু জাজ করতে পারে না। তাদের যেটা ভালো লাগে, সেটাই গায়। এটা দেখলে আগ্রহ বেড়ে যায়।
আপনার ‘দিল দিল দিল’, ‘ওহে শ্যাম’, ‘প্রেমের বাক্স’, ‘তুই কি আমার হবি রে’ শ্রোতামহলে বেশ জনপ্রিয়। চলচ্চিত্রের গানে এই সাফল্যের রহস্য কী?
এ সাফল্যে আসলে আমার একার না। একটা গানের সঙ্গে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক সবাই জড়িত থাকে। এটা আসলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা। গানের ক্রেডিট সবার আগে তাদের দিকেই যায়। তাদের সালাম জানাই। চলচ্চিত্রের গানে নায়ক-নায়িকার ভূমিকাও অনেক মুখ্য, এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সেটার মেকিং, পিকচারাইজেশন। আমার ‘দিল দিল দিল’ গানটা ভালো ছিল, এর সঙ্গে শাকিব খান-বুবলীর রসায়ন ও পিকচারাইজেশন যদি ঠিক না হতো তাহলে গানটা হিট হতো না। তাই একটা গানের সঙ্গে জড়িত সবার প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূলমন্ত্র।
নতুন কী কী গান আসছে এ বছরে?
শীতের সময় তো, তাই শো নিয়ে বেশি ব্যস্ত। এজন্য অনেক কিছুই করতে পারছি না। তিনটি গান প্রস্তুত করে রেখেছি, কিন্তু কারো সঙ্গে যে প্রজেক্টগুলো নিয়ে বসব সে সময়ও পাচ্ছি না। ৫ তারিখ পর্যন্ত টানা শো রয়েছে ঢাকার বাইরে। এরপর দুটো মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা আছে। এর বাইরে বেশ কিছু সিনেমার গানও আছে। ‘বিক্ষোভ’, ‘শান’, ‘জ্বিন’ সিনেমার গান, তিনটাতেই ইমরানের সঙ্গে গাইব। এছাড়া ‘কাঠবিড়ালি’, ‘সিক্রেট এজেন্ট’ সিনেমার জন্যও গাইছি। গানগুলো শিগগিরই আসবে। প্রতিটা গানই দারুণ সুন্দর। হিট হবে বলব না, কিন্তু মানুষ পছন্দ করবে, এটা আমার বিশ্বাস।
অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন তেমন ভালো না। এক-দেড় দশক আগের গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। অন্যদিকে এই সময়ের গানগুলো হিট হলেও দীর্ঘ সময় টিকছে না। কেন?
অবশ্যই টিকবে, কিন্তু সেজন্য সময় দিতে হবে। যে গানটা এখন প্রকাশিত হয়েছে, সেটা টিকেছে কি না বোঝা যাবে দশ বছর পরে। আগে অনেক গানই হয়েছে, সব কি টিকে আছে? অনেক গান টিকেনি, সেগুলো কেউ শুনছেও না। এই সময়ের গানগুলোর জন্যও এটা প্রযোজ্য। আমার ‘ধিম তা না’ গানটা প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালে, যা এখনো মানুষ শুনছে। তাই সময় বলে দেবে, এখনকার গান টিকবে কি না।
নতুন বছরে প্রত্যাশা কী?
আমি আসলে কখনই অতি প্রত্যাশা নিয়ে কিছু করি না। তবে আমি আমার কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান। আমি চাইব, যেমন আছি নিজেকে যেন সেভাবেই ধরে রাখতে পারি, আর দর্শক যেন আমার গানগুলো সাদরে গ্রহণ করে। এর বেশি চাই না।
