১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় শান্তিনগরের গোল্ডেন এরা কিডস স্কুল প্রাঙ্গণে ৪৯তম বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় বিদ্যালয়ের শিশুদের অংশগ্রহণে আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ফেলনা থেকে খেলনা তৈরি এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। স্কুলের সভাপতি রাসেল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন গবেষক, আলোকচিত্রী ও পর্বতারোহী মীর শামছুল আলম বাবু। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত শিশু সংগঠন জোটের সাধারণ সম্পাদক মসলেহ উদ্দিন খান মজলিস। এ সময় আরো ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর ছোট কন্যা তানভীর ফারহানা ওয়াহেদ, বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী, আলেয়া বেগম আলো, ডা. এম এ মুক্তাদির, সংগঠক মুহাম্মাদ হাসানুল বান্না ও কবি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু। আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট প্রদর্শনীর পরিকল্পনাকারী বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অঙ্কন শিক্ষক অজিত কুমার সরকার ও শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানটি ৪টি পর্বে সাজানো হয়েছিল। প্রথম পর্বে পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন ছিল অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে। তৃতীয় পর্বে ছিল অতিথিদের বক্তৃতা। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের সৃষ্টিশীল করে গড়ে তোলার প্রয়াসেই এ প্রদর্শনীর আয়োজন। কোনোকিছুই ফেলনা নয়, এই প্রদর্শনীর মূল বিষয়।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন মীর শামছুল আলম বাবু বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের সৃষ্টিশীল করে গড়ে তোলার জন্য এই আয়োজনটি প্রশংসনীয়।’ শিশু সংগঠন মসলেহ উদ্দিন খান মজলিস বলেন, ‘এ রকম আয়োজন ভবিষ্যতে শিশুদের দায়িত্বশীল করে তুলবে।’ বিশ্ব পর্যটক এলিজা বিনতে এলাহী বলেন, ‘ফেলনা থেকে শিশুরা তৈরি করেছে নানারকমের খেলনা বিষয়টি চমত্কার ও সৃষ্টিশীল তো বটেই।’
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তৃতায় মহান বিজয় দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশাত্ববোধ তৈরি করার জন্য অভিভাবকবৃন্দকে অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানের চতুর্থ ও শেষ পর্বে জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপনী শেষে অতিথি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের তৈরিকৃত আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের তৈরি করা ফেলনা থেকে খেলনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা।
