নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি হোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৬

নীতি কথাটি সামনে আসলেই সমস্ত ভালো কথা মন-মগজে আলোড়িত হয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে যদি নীতির সুষ্ঠু ব্যবহার হয় তাহলে সেটা হয় সুনীতি আর এর বিপরীত হলেই হয় দুর্নীতি। আমাদের আশপাশে ব্যক্তিবিশেষে অনেক নীতিবান লোকের দেখা মেলে। তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ এবং কর্মকাণ্ডে সবসময় স্বচ্ছতার ছাপ পাওয়া যায়। আবার এরকম অনেক লোকের দেখা মেলে যারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। তারা স্ব-ইচ্ছায় বিবেকবর্জিত হয়ে নীতিহীন কাজ করে অর্থাত্ দুর্নীতি করে। আবার এরকমও কিছু লোক পাওয়া যায় যারা নৈতিক উপায়ে দুর্নীতি করে। নৈতিক উপায়ে দুর্নীতি করার বিষয়টা বলতে গেলে বোঝা মুশকিল। ব্যক্তির দুর্নীতি পরিবারেও প্রভাব ফেলে। একটি পরিবারের প্রধান বা ইনকামের যিনি মূল তিনি যদি দুর্নীতিপ্রবণ হন তাহলে তার দেখাদেখি অন্য সদস্যরাও প্রভাবিত হতে পারে এটা আহামরি কিছু নয়। কারণ অনুকরণ-অনুসরণের বিষয়টা পরিবার থেকেই শুরু হয় আর এটা চলতে থাকে সব জায়গায়। আর সমাজ পরিবারের একটা অংশ হিসেবে পরিবারের শিক্ষা সহজেই সমাজে প্রতিফলিত হয়। ব্যক্তি যদি নীতির সুষ্ঠু ব্যবহার পরিবার থেকে শিখে না আসে তাহলে তার দ্বারা সমাজ কলুষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সমাজ কলুষিত হলে প্রত্যেক জায়গায় অস্থিরতা বিরাজ করবে। দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। একটি দেশের উন্নয়ন কখনো অসত্ লোকদের মাধ্যমে হয় না এর অনেক নজির ইতিহাসে বিদ্যমান। সত্, দেশপ্রেমিক এবং নীতিবান লোকেরাই পারে দেশকে সমৃদ্ধ করতে। একটা বিষয় বলে রাখা যাক কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে না দুর্নীতিগ্রস্ত হয় মানুষ। সমাজ বা দেশ কাঠামো মাত্র। দুর্নীতির কিছু কারণ রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো জবাবদিহিতার অভাব, সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে অবৈধভাবে সম্পদ গচ্ছিত রাখার প্রবণতা, নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতি এবং বৈষয়িক কারণ। যাহোক দুর্নীতির কালো থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সত্ এবং নিষ্ঠাবান হতে হবে। শুধু দুর্নীতিবিরোধী কমিশন থাকলেই হবে না এতে হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সাফল্য আসবে। চিরতরে দুর্নীতিকে বিদায় বলা যাবে কি না সেটা বলা মুশকিল তবে কিছু নিয়মের মাধ্যমে এর হ্রাস ঘটানো যেতে পারে। যে যেই সেক্টরেই কাজ করুক না কেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর করা, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। শৈশবেই দুর্নীতির কুফল এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজের ভালো দিক তুলে ধরতে হবে। আর দুর্নীতিকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সর্বোপরি দুর্নীতি দমন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে দিতে হবে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের সোনার ছেলেরা এই লাল সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছে। এই পতাকার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।

আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হব। আমরা স্বজনপ্রীতি, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ করব না। অতীতের সব গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুরুতে নতুন করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ নিব। দেশমাতৃকার স্বার্থে সদা সর্বদা জাগ্রত থাকব। যেই উদ্দেশে সোনার ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে সেই লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট থাকব।                                                

n লেখক :শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়