জুবিলি পার্কের গাছ থেকে বোঁটাখসা
মেপেলপাতা ভেসে যায় টেমসের স্রোতে—
কবে এক দস্যু বণিক এভাবে ভেসে
পৌঁছেছিল কালিকট
বাণিজ্যের ছলে;
তরবারি ছিল না, অ্যাটমও না
ছলনা ও কূটচালের
একগুচ্ছ নিরাকার মারণাস্ত্র
ছিল শুধু তার
অ্যাটমের চেয়ে ভারী।
সিরাজের বিশ্বাসের অফুরান
ভাণ্ডার লুটে
সরল বাংলার বাতাসের ব্ল্যাকবোর্ডে
তাই দিয়ে কষেছিল
শুভঙ্করের অনিঃশ্বেষ ভাগফল।
ভাগীরথী পদ্মা মেঘনা যমুনা
টেমসের মতো বয়ে যায়—
নদীরা ষড়যন্ত্র বোঝে না
তাদের নেই এথনিক পরিচয়
মেপেল কিংবা জারুলের পাতা
বুকে নিয়ে বয়ে যায়—
দু’ধারে বিষাদের মতো জমে
ইতিহাসের পলি।
পদ্মার পাড়ে ভাগের নামতা লেখে আজও
বণিকের বংশধর;
আপনা মাঁস ভক্ষণ করে
বৈরী হয়।
অথচ টেমসের তীরে মেরুদণ্ডী মেপেলগাছও
দ্বিধা হয়
দ্বিখণ্ডিত বাংলার দুঃখে।
