নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে বাংলাদেশের ৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১ টার দিকে হাই কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার শান্তি এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।
বিকেল তিনটায় বেডেন-পাওয়েল হাউজে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘বাংলাদেশ-একটি দেশের জন্ম: ১৯৫২-১৯৭১ শীর্ষক’ এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সংগীত রচয়িতা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারতের হাইকমিশনার রুচি ঘনশ্যাম, ব্রিটিশ সাংসদ পল স্কালি, থেরেসা ভিলারস ও ভ্যালেরি ভাজ এবং পাওয়ার হ্যামলেটের স্পিকার আয়েস মিয়া।
আরো পড়ুন: সিডনিতে ‘রিফিউজি বিভ্রাট’র মঞ্চায়ন ২৩ ডিসেম্বর
রাশিয়া ও শ্রীলংকার কূটনৈতিকবৃন্দ, ব্রিটিশ ও যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। সন্ত্রাস দমন ও সামাজিক উন্নয়নের দিক দিয়েও বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আরো আন্তরিক ও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টা, দূরদর্শী ও সত্যনিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তিনি সবাইকে একযোগে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে লাঞ্ছিতা ২ লাখ নারী ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ অনুসরণ এবং তা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আমরা আশা করি তার নেতৃত্বে ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
