এলহামের দুঃখগাথা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩০

লেপের নিচ থেকে মাথা তুলে আমার ঘরের বিশাল কাচের জানালাটির দিকে তাকাই। অন্যসময়ে সেখানে একজোড়া ফিঙ্গার-নেইল পাখি এসে উত্তুঙ্গ নাচ জুড়ে দেয়। আজ তাদের দেখা নেই। দেখা পাওয়ার অবশ্য কথাও নয়। এখন যে শীতকাল! এই ঝুম ঠান্ডার মধ্যে পাখি তো ছাই, সকালের হাওয়াও যেন থমকে গেছে। তবে সবকিছু থমকে গেলেও জীবিকার চাকা তো আর থমকে যায় না; তাকে চলতে হয়, চালাতে হয়। আমাকেও তাই পাখিদের অপেক্ষা সাঙ্গ করে উনুনে গরম জল চাপাতে হয়, চা বানানোর জন্য। জল ফোটে, আর এর মধ্যে আমি টুক করে নিজেকে জামা-কাপড়ে মুড়ে ফেলি।

আমি অরূপ, থাকি পূর্ব বার্লিনের এক সস্তা পাড়ায়। পাড়াটি তুর্কি অধ্যুষিত। ফ্ল্যাটটি ভাড়া পেয়েছিলাম এক দেশি ভাইয়ের মাধ্যমে। বাড়িওয়ালার ছেলের সঙ্গে তার বোধকরি কিছু চিন-পরিচয় ছিল। ভাড়া আমার সাধ্যের নাগালেই। এক বেডরুমের ফ্ল্যাটটি আমার প্রয়োজন মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট। প্রথমদিন এটি দেখতে এসে সবচেয়ে যে ব্যাপারটি ভালো লেগেছিল, তা হলো ওই উত্তরের জানালাটি। প্রশস্ত সিল-লেভেল জানালাটিকে দিয়েছে এক ছবির ফ্রেমের রূপ; আমি মাঝে-মাঝে কাজ থেকে ফিরে ওখানে বসি এক কাপ চা নিয়ে, আর শীতের এমন দিনগুলোতে  শার্সি বন্ধ করে ওপাশে বাতাসের ঝটপটানি দেখি।

ইলেকট্রিক কেটলির হুস শব্দ শুনে আমি সম্বিত্ ফিরে পাই। চকিতে ফিরে যাই উনুনের ধারে। পুল-ওভারের হাতা সরিয়ে ঘড়ি দেখে বুঝি, চা গেলবার জন্যে আমার হাতে সময় আছে আর মাত্র মিনিট সাতেকের মতো। এ দেশে সবকিছুই এমনভাবে সময়ের নিক্তিতে বেঁধে রাখা। এই সাত মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে না বেরুতে পারলে বাড়ির কাছের ইউ-বান স্টেশনে পৌঁছাতে আমার হয়তো কয়েক মিনিট দেরি হয়ে যাবে। তার মধ্যে হয়তো চলে যাবে সাতটা পঁয়তাল্লিশের ট্রেনটি, পরের ট্রেন পাক্কা বিশ মিনিট পর। অর্থাত্ সেদিন অফিসের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আমার ওপর পড়বে মেলা জবাবদিহির ঝামেলা। এতসব ঝামেলায় যেতে মন সায় দেয় না। আমি তাই কাপের চা অর্ধেক গিলেই গলায় মাফলার জড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।

আমার বাড়ির দু বাড়ি পরেই এক তুর্কি মুদি দোকান। আমি সেখানে ঝট করে থেমে দুটো ক্রসয়া আর একটি সেদ্ধ ডিম কিনে জোরসে হাঁটা দিই। আমার নিঃশ্বাসের সাথে উড়ে যায় গরম বাষ্প। হাতের ক্রসয়াটি খেতে মন চায়, কিন্তু এখন দস্তানা খুলে খেতে গেলে শীতের কামড়ে আমার খাওয়া লাটে উঠবে; তাই মনে মনে ঠিক করে রাখি ট্রেনের  কামরা যখন দুলে দুলে তীব্র গতিতে ছুটে চলবে, সেই ফাঁকে বরং খেয়ে নেওয়া যাবে।

ভিডারহাল খালের ওপরকার সেতুটি পেরোবার সময়ে আমার ঠিক নিচ দিয়ে গম্ভীর চলনে ভেসে যায় একটি বার্য। সেতুটির ঠিক মাঝখানটায় রেলিংয়ে একটি বয়া বাঁধা। আমি এটি প্রতিদিনই দেখি, আর ভাবি কোন নরাধমের সাধ হয়েছে এমন শীতে এই খালে ঝাঁপ দেবার? সেতু পেরোবার পর বাঁ ধারের গোরস্থানটিতে দেখতে পাই শুরু হয়ে গেছে সকালের পাতা কুড়ানো, ঘুমিয়ে থাকা সিডার গাছগুলো পাতা ঝরিয়ে কেমন যেন নিষ্প্রাণ, রিক্ত। আমি জানি গোরস্থানের পরের ছোট্ট পার্কটিতে আমি কী দেখব, এই দৃশ্যগুলো যে আমার মুখস্থ! সেখানে যথারীতি এক বুড়ো কোলের কুকুরটিকে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণ শেষে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। মাঝারি আকারের কুকুরটি জড়সড় হয়ে বুড়োর আদর খাচ্ছে।

প্ল্যাটফর্মে নেমে ওপরের বোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখি?ট্রেন এসে পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট তিনেক বাকি। আমার আবার টিকেট কাটার ঝামেলা নেই। মান্থলি টিকেট কেনা আছে, ওটা পকেটেই থাকে। আমি তাই ভাবছি, ঠিক কোন দিকের কামরায় উঠব? এদিককার? নাকি মাঝের কোনো কামরায়? অনেকটা এমন সময়েই একটি মেয়েকে দেখি হন্তদন্ত হয়ে টিকেট কাটার মেশিনের সাথে যুদ্ধ করছে। ব্যাপার কী সেটি দেখার জন্যে এগিয়ে যেতে বুঝতে পারি, মেয়েটি পড়েছে আচ্ছা বিপদে। এ স্টেশনে টিকেট কাটার মেশিন মাত্র দুই প্রান্তে দুটি। তার মধ্যে এ প্রান্তের মেশিনটিতে কেবল পয়সা দিয়ে টিকেট কেনা যায়, ওই ধারেরটিতে পয়সা-টাকা দুটোই নেয়। মেয়েটির কাছে টিকেট কাটার মতো পয়সা আছে, কিন্তু সমস্যা হলো একটি আধুলি দেবার পর মেশিনটি কোনো এক কারণে সেটি বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছে। এদিকে ও যে দৌড়ে অপরপ্রান্তে গিয়ে টিকেট কাটবে, সে অবস্থাও নেই, কারণ ট্রেনটি এর মধ্যেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকে গেছে। মেয়েটি কিছুটা করুণমুখে আমার দিকে তাকায়, আমি ঝট করে আমার মানিব্যাগ খুলে আরেকটি আধুলি মেশিনে ফেললে সেটি গ্রহণ করে মেশিনটি প্রিন্ট করে দেয় কাঙ্ক্ষিত টিকেট। আমি সেটি মেয়েটির হাতে তুলে দিয়ে ওকে নিয়ে একপ্রকার দৌড়ে ট্রেনে উঠি; আমরা ওঠার সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয় দরজা।

এবারে ওর দিকে ভালো করে তাকানোর সুযোগ আমার হয়। তাড়া খাওয়া হরিণের মতো এক সলজ্জ আর্দ্র চাহনি ওর চোখে। কামরার মৃদু আলোতেও ওর গণ্ডদেশের রক্তাভা আমার চোখ এড়ায় না। আমার দিকে সকৃতজ্ঞ দৃষ্টি নিক্ষেপ করার বাদে মেয়েটিকে নিয়ে আমার বড্ড কৌতূহল হয়। আমি ওকে আরো কিছুটা খুঁটিয়ে নিরীক্ষা করার সময়ে বাঁ হাতের তালুর উপরিভাগে আরবিতে উল্কি আঁকা কিছু একটা লেখা দেখতে পাই, যেটি ঢাকার জন্যে মেয়েটি বারবারই জ্যাকেটের হাতাটিকে টেনে নামিয়ে আনছে। মেয়েটি নেমে যায় আমার গন্তব্যের দুই স্টেশন আগেই। ও জার্মান নয়, সেটি পরিষ্কার। শরণার্থী হয়ে যে এসেছে, সেটি টিকেট কাটার মেশিনের সামনে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে সাহায্য চাওয়ার সময়েই বুঝেছি। তবু এতটুকু অনুমানে আমার প্রাণ ভরে না। মনে মনে ঠিক করি, পরদিন যদি আবারও দেখা হয়, তবে জেনে নেব তার শুলুকসন্ধান।

বার্লিনে আছি বছর চারেক হলো। সকাল থেকে সন্ধে অব্দি একটা সওদাগরি অফিসে গাধার মতো খাটি। বিকেলে বাড়ি ফিরি, রাতের খাবার খাই, পরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার কাজে যাই। মাস শেষে নিজের খরচবাদে যে টাকাগুলো বাঁচে, সেগুলো দেশে পাঠাই। দেশে আরো চারটি প্রাণী আমার এই পাঠানো টাকায় বেঁচে আছে। কিন্তু এদিকে আমার জীবন কিন্তু বড্ড একঘেয়ে, নিরানন্দময়। এ জীবনে কোনো কম্পন নেই, নেই কোনো বান্ধব, নেই কোন হঠাত্ পাওয়া সুখানুভূতি। সেই তরুণীটি আমার মাঝে একপ্রকার কম্পনের স্বাদ পাবার সুযোগ এনে দিল যেন। আমি পরদিন আরো প্রায় মিনিট দশেক আগেই স্টেশনে গিয়ে পৌঁছালাম, কিন্তু সারাটি প্ল্যাটফর্ম ভালোভাবে খুঁজেও তাকে আর পেলাম না। তবে কি সে পরের ট্রেন ধরবে? নাকি আরো সকালের ট্রেনটি ধরে চলে গেছে? মনের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আর খুঁজে পাই না।

মেয়েটির সঙ্গে আমার আবারও দেখা হয় ঠিক এক মাস সতেরো দিন পর। মাঝের দিনগুলোতে আমি কিন্তু একদিনের জন্যেও তার কথা ভুলিনি। এবার ওর সঙ্গে আমার দেখা হয় অফিস থেকে ফেরার পথে। ও আমার কামরায় উঠে আমাকে খেয়াল না করে চলে গিয়েছিল অন্য ধারে। আমিই উঠে গিয়ে ওর পাশে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘আমাকে চিনতে পেরেছ?’ 

আমার ধারণা ছিল, মেয়েটি বুঝিবা আমাকে চিনতে পেরে উত্ফুল্ল হয়ে উঠবে। কিন্তু না, মেয়েটি আমার দিকে নির্লিপ্তভাবে তাকিয়ে শুষ্ক মুখে বলল, ‘দুঃখিত আপনাকে ঠিক চিনতে পারছি না।’ আমার উচ্ছ্বাসে কেউ যেন জল ঢেলে দিল। কামরাভর্তি মানুষের সামনে তো আর তাকে চিনে নেবার জন্যে জোর করা যায় না, তাতে লোকে ভিন্ন কিছু ভাবতে পারে। আমি তাই অন্য কোণে গিয়ে গুটিসুটি মেরে বিমর্ষমুখে বসে থাকি।

এর প্রায় ছ মাস পরের কথা। আমি সেদিন এক সহকর্মীর মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছি। ওদের বাড়ি বার্লিনের পশ্চিম প্রান্তে, সেখান থেকে তিনটি ট্রেন বদলে আমার ঠিকানায় আসতে হয়। রাত তখন প্রায় দশটা। দ্বিতীয় ট্রেনটি বদলে দেখি তৃতীয় ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছাবে আরো প্রায় মিনিট বিশেক পর। রাত নয়টার পর এখানে ট্রেনগুলো দীর্ঘ বিরতিতে ছাড়ে। স্টেশনের ভেতরটা কিছুটা গুমোট। আমি তাই বাইরে কোথাও এই মধ্যবর্তী সময়ের জন্যে পায়চারি করতে বেরোই।

কুরফুয়েরস্টেনস্ট্রাসে স্টেশনটি ছিল পথের পাশে একটু উঁচু স্থানে। আমি সিঁড়ি বেয়ে নেমে যেখানে দাঁড়াই, তার উল্টোদিকে এদিককার প্রধান সড়ক, আর ডানধারে অন্ধকারমতো স্থান। অধিকাংশ দোকানপাট এরই মধ্যে ঝাঁপি বন্ধ করে জায়গাটিকে দিয়েছে কিছুটা ভুতুড়ে দশা। হঠাত্ আমি সেখানটায় দু রাস্তার কোণে একটি মেয়েকে দেখতে পাই। অন্ধকারে তার মুখটি ঠিক ঠাহর করতে পারি না, তবে তার পাপড়ির ওপরকার চড়া মেকআপ এই আঁধারেও ঝিলিক দেয়। মেয়েটি আমার দিকে অগ্রসর হয়ে বেশ সপ্রতিভভাবে বলে, ‘নেবে আমায়? ফুল সার্ভিস ত্রিশ ইউরো।’ মেয়েটির আহ্বানে ক্ষণিকের জন্যে হলেও যে আমার মাঝে ষড়রিপুর প্রথমটি জাগ্রত হয়নি, সে দাবি করে কপটতার আশ্রয় নেব না। হয়েছে। তবে কি, ত্রিশ ইউরো তো বটেই, সেই সাথে মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কোনো এক ‘আরেক আমি’ আমাকে এ কাজে নিবৃত্ত হতে বলে। আমি মাথা নেড়ে মেয়েটিকে অসম্মতি জানাই। এবারে মেয়েটি আমার আরো কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়। আমার কবজি ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে আদুরে গলায় বলে, ‘আজ তেমন কিছু রোজগার হয়নি। ত্রিশ ইউরো কি তোমার কাছে খুব বেশি কিছু?’ কথা বলার মধ্যে আমি একটু স্টেশনের দিকটায় সরে এসেছিলাম। পাশেই এক সাইনবোর্ডের নিয়ন আলোয় কিছুটা দৃশ্যমান ওর হাতের দিকে লক্ষ করে আমি চমকে উঠি, সেখানে উল্কি দিয়ে কিছু একটা লেখা।

এবারে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমি জড়তাহীনভাবে বলি, ‘ত্রিশ ইউরো তুমি পাবে, তবে কোনো সার্ভিসের জন্যে নয়। আমি শুধু তোমার সাথে মিনিট দশেক কথা বলতে চাই।’ প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও ও আমার প্রস্তাবে রাজি হয়।

কিছুটা দূরে এক তুর্কি কেবাব শপে আলো জ্বলতে দেখে আমি ওকে নিয়ে সেখানে যাই। আমার তেমন খিদে নেই। তবুও দুজনের জন্যে দুটো ‘দোনের কেবাব’ অর্ডার করে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলি, ‘আমি তোমাকে জানতে চাই।’ ওকে জানা হয় আমার, কিন্তু সেটি এত বিষাদময় যে, পরে মনে হলো হয়তো উপেক্ষা করে চলে এলেই ভালো হতো।

মেয়েটির নাম এলহাম। নিবাস ছিল উত্তর ইরাকের মসুল শহরে। এলহামরা ইয়াজিদি গোত্রের। বছর কয়েক আগে সারা ইরাকে সংঘাতের সূচনা হলে ওদের শহরেও নেমে আসে দুর্বিপাকের কালো মেঘ, মসুল ছেয়ে যায় বারুদের পোড়া গন্ধে। এই ডামাডোলে দুই বোনসহ ও হয় অপহূত, তিন বোনকেই যৌনদাসী হিসেবে বেচে দেওয়া হয়। পরিবারের বাকি সবাই খুন হন। অন্তরীণ অবস্থায় আত্মহত্যার চিন্তা থেকে একদিন ও হাতে উল্কি করে নিজের নামটি লিখে রাখে, যাতে ওর শব দেখে পরে শনাক্ত করা যায়। এমন চরম হতাশা আর অন্তর্জালাময় সময়েই একদিন পালানোর সুযোগ আসে। তুরস্ক হয়ে জার্মানিতে পালিয়ে আসে এলহাম। কিছুদিন আগে ওর সঙ্গে পরিচয় হয় এক সিরিয়ানের। তার কাছ থেকে জানতে পারে, অবরুদ্ধ অঞ্চলে এখনো আটকে আছে দু বোন। প্রায় পাঁচ হাজার ইউরো জোগাড় করতে পারলে কয়েক দালালের মাধ্যমে সেই অভাগা বোনদুটিকে ছাড়িয়ে আনা সম্ভব। আর এখনকার এই কাজটি ছাড়া দ্রুততম সময়ে পাঁচ হাজার ইউরো জোগাড়ের আর কোনো পথ এলহামের কাছে নেই। চেনা-পরিচিত মানুষকে ও আজকাল এড়িয়ে চলে। অনেকে হয়তো সান্ত্বনা দেবে, কেউ হয়তো করবে ভর্ত্সনা, কিন্তু বোনদুটিকে তো কেউ আর ছাড়িয়ে আনবে না! সে কাজটি ওর নিজেকেই করতে হবে।

এলহামের দিকে আমি ত্রিশ ইউরোর নোটগুলো বাড়িয়ে দেই। সেগুলো ফিরিয়ে দিয়ে কিছুটা নতমুখী হয়ে ও বলে, ‘তোমার কাছ থেকে সেদিন দুটো আধুলি ধার করেছিলাম, ধরে নাও আজ না হয় সেই ঋণ শোধ করলাম।’