ইহরাম থেকে আরাফাহ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০২

(পূর্ব প্রকাশের পর)

প্রথমেই উল্লেখ করা যাক হজের কার্যক্রম। হজ পেছনের সমস্ত গুণাহ মিটিয়ে দেয়। সেই কারণেই হজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকা উচিত্। হজ অর্থ ইচ্ছা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হজের জন্য নির্ধারিত তারিখে অর্থাত্ জিলহজ মাসের ৮ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে শরিয়তের নির্ধারিত কার্যসমূহ সম্পাদন করে সঠিক দ্বীনের পথে চলার ইচ্ছা বা সংকলন করাই হলো হজ।

হজের ফরজ ৩টি—(১) ইহরাম বাধা (২) আরাফার মাঠে অবস্থান করা ও (৩) তাওয়াফে জিয়ারত করা। হজ সম্পাদনের স্থান ৪টি (১) মিনা (২) আরাফা (৩) মুজদালিফা ও (৪) বাইতুল্লাহ। উক্ত কাজ ৫দিনে সম্পাদন করতে হয়।

পবিত্র হজের ওয়াজিব ৬টি— (১) মুজদালিফায় অবস্থান করা (২) জামারায় কংকর মারা (৩) কোরবানি করা (৪) মাথা মুণ্ডন করা (৫) সায়ী করা ও (৬) বিদায়ি তাওয়াফ করে হজ কার্যক্রম শেষ করা। হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। যে সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারী হজে যাওয়ার মত শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ রয়েছে, তাদের উপর জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আমি হজের সফরে ব্যবহূত কিছু পরিভাষা এখানে তুলে ধরতে চাই।

১। ইহরাম : হজ বা উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পড়া।

২। তালবিয়া :এই দোয়া পড়া—লাব্বাইকা, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লাশারীকা লাকা লাইব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ানিমাতা লাকা ওয়াল মুলক লাশারীকা লাক।

৩। ইছতিলাস :হজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া অথবা হাত দিয়ে স্পর্শ করে বা হাত ইশারা করে তালুতে চুমা দেয়া। রুকনে ইযামানীকে হাত দিয়ে স্পর্শ করাকেও ইছতিলাস বলে।

৪। ইযতিবা :পুরুষের জন্য ইহরামের চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বের করে বাম কাধের উপর রাখাকে ইযতিবা বলে। যে তাওয়াফের পর সায়ী আছে সে তাওয়াফ অবস্থায় এটা করণীয়।

৫। রমল :যে তাওয়াফের পর সায়ী আছে সে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্কর কাঁধ হেলিয়ে দুলিয়ে ছোট ছোট পদে একটু দ্রুত ও বীর দর্পে হাঁটা।

৬। সায়ী :তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর দেয়া।

৭। মসজিদে হারাম :বাইতুল্লাহ শরীফকে চতুর্দিক থেকে যে বিশাল মসজিদ ঘিরে রেখেছে এটাই মসজিদে হারাম বা হারাম শরীফ।

(৮) সুলতামাম :হাজরে আসওয়াদ এবং বাইতুল্লাহ শরীফের দরজার মধ্যবর্তী দেয়াল।

(৯) রুকনে ইয়ামানী :বাইতুল্লাহর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ,

(১০) হেরেম: মসজিদে হারামের চতুর্দিকে কিছুদূর পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে হেরেম বলে। চারদিকে এর সীমানা চিহ্নিত রয়েছে। এখানে যুদ্ধ করা, পশুপাখী শিকার করা, গাছ কাটা নিষেধ। এখানে কাফেরদের প্রবেশ নিষেধ। হেরেমের বাইরের অংশকে ‘হিল’ বলে।

(১১) মিকাত :মক্কাগামী বা হাজীদের জন্য যেস্থান ইহরাম ব্যতীত অতিক্রম করা জায়েয নয় সেই স্থানকে ‘মিকাত’ বলা হয়। যেমন বাংলাদেশ থেকে বিমানের যাত্রীদের জন্য মিকাত কারনুল মানাযিল ও ‘যাতুইরক’ এর মধ্যবর্তী স্থান।

(১২) হিল :হেরেমের সীমানার বাইরে মিকাতের আগ পর্যন্ত স্থানকে হিল বলে।

(১৩) দম :উমরাহ ও হজের আমলে বিশেষ ত্রুটি হলে কিংবা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেলে হেরেমের এলাকায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি ছাগল-দুম্বা বা উট-গরুর সাত ভাগের একভাগ কুরবানি করাকে দম বলে।

(১৪) তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদের কোণ থেকে শুরু থেকে পুরো কাবাঘর বিশেষ নিয়মে সাতবার চক্কর দেওয়াকে তাওয়াফ বলে।   (চলবে)

—লেখক :জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী