দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আগামী ১৮ জানুয়ারি শুরু হবে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তান। বিশ্বকাপ খেলতে আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৪ জানুয়ারি জোহানেসবার্গে পৌঁছাবে টাইগার জুনিয়ররা।
আকবর আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুবদল ঘোষণা করা হয়েছে। গত দুই বছরে দেশের মাটিতে, বিদেশে অনেক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে এই দলটি। আকবর আলীর দলকে ধরা হচ্ছে এ যাবত্কালের সবচেয়ে শক্তিশালী বাংলাদেশ যুবদল। ট্রফি জয়ের দাবিদারও মনে করছেন অনেকে। দারুণ সব সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দলের পক্ষে ফাইনালে খেলা সম্ভব বলেই মনে করেন আকবর আলী। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন যুবদলের অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের আগে পচেফস্ট্রুমে ৫ জানুয়ারি থেকে ক্যাম্প করবে টাইগার জুনিয়ররা। সেখানে স্থানীয় দলের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ যুবদল। তারপর আইসিসির নির্ধারিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নিবে আকবর বাহিনী।
গত সপ্তাহে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, যুবারা সেমিফাইনালে উঠলে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা দেখতে যাবেন। বাংলাদেশ যুবদল অবশ্য সেমিতেই থেমে থাকতে চায় না। ট্রফি জয়ের মঞ্চ তথা ফাইনালে খেলতে চায় বাংলাদেশ।
গতকাল আকবর আলী বলেছেন, ‘যদি আমাদের দলের কথা বলি, আমাদের দল সেমিফাইনাল কেন, ফাইনালেও খেলা সম্ভব। আমরা সাম্প্রতিক অতীতে যেমন খেলেছি এবং আমাদের টিম কম্বিনেশন যেমন দাঁড়িয়েছে, ফাইনালে খেলার মতো টিম আমাদের রয়েছে। তো আশা করি সভাপতি যেটা বলেছে, আমরা তাকে নিয়ে যেতে পারব।’ যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেজাল্ট সেমিফাইনাল খেলা। ২০১৬ সালে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ চারে খেলেছিল বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য, ধারাবাহিকতার কারণেই দলটিকে ঘিরে বড়ো কিছুর আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শুরুতেই ফাইনাল নিয়ে ভাবতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ম্যাচ বাই ম্যাচ টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রত্যাশাকে চাপ হিসেবে নিচ্ছে না যুবদল। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আকবর আলী বলেছেন, ‘আমরা সমপ্রতি ভালো খেলেছি দেখেই কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট যারা অনুসরণ করে তাদের প্রত্যাশা বাড়ছে। আমরা ফলাফলের দিকে তাকাচ্ছি না প্রতিটি ম্যাচকেই ম্যাচ বাই এবং ম্যাচের যে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করি সেটাই করার।’
নকআউট পর্ব নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রাথমিক টার্গেট। যুবদলের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা বহুদূরে দেখতে চাচ্ছি না, সেটা আমাদেরকে বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তো আমাদের প্রথম লক্ষ্যটাই থাকবে নক আউট নিশ্চিত করা এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করা।’
বিশ্বকাপের জন্য গত দুই সপ্তাহ বগুড়ায় ক্যাম্প করেছিল বাংলাদেশ যুবদল। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে দুই সপ্তাহ অনুশীলনের সুযোগ পাবে টাইগার জুনিয়ররা।
যুবদলের হেড কোচ নাভিদ নেওয়াজও নকআউট পর্বকে টার্গেট করছেন। দলের মূল শক্তি সম্পর্কে লঙ্কান কোচ বলেছেন, ‘আমি বলব ব্যাটিংই আমাদের মূল শক্তি। আপনি যদি আমাদের সামপ্রতিক অতীতের ম্যাচগুলোর দিকে তাকান বুঝবেন। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন নেই যে আমাদের বোলিংটা দুর্বল। আমরা আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপরেই নির্ভর করব।’
ফাইনালেও
খেলা সম্ভব
আকবর আলী
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
বাংলাদেশের খেলা
(প্রথম পর্ব)
তারিখ ম্যাচ ভেন্যু
১৮ জানু. বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে পচেফস্ট্রুম
২১ জানু. বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড পচেফস্ট্রুম
২৪ জানু. বাংলাদেশ-পাকিস্তান পচেফস্ট্রুম
