সৈয়দপুরে রেললাইনের দুই পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা!

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৮

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় রেললাইনের উভয় পাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন, তেমনি বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

জানা যায়, রেলওয়ের আইন অনুযায়ী রেললাইনের উভয় পাশের বিশ ফুট এলাকা বিপজ্জনক ও সংরক্ষিত এলাকা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পার্বতীপুর-সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেললাইন। সৈয়দপুর থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী পর্যন্ত আন্তঃনগর ও লোকাল মিলে সাতটি ট্রেন ১৪ বার চলাচল করে। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় প্রতিদিনই ওয়াগন ও বগি ঐ রেলওয়ে লাইন দিয়েই আনা ও পাঠানো হয়। আর সৈয়দপুর শহরের ১২৬ নম্বর রেলওয়ে গেট থেকে ১২৫ নম্বর গেট হয়ে দক্ষিণের হাতিখানা বানিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেললাইন ঘেঁষে দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।

এসবের মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেডিং দোকান, কামার, স্বর্ণকার, মাংস, ট্রাঙ্ক-বালতির কারখানা, কাগজের বাক্স তৈরির কারখানা, টেইলার্স, আসবাব তৈরির কারখানা প্রভৃতি। এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ পিকআপ স্ট্যান্ড ও ফলের পাইকারি আড়ত। রেললাইনের দুই পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার জন্য ক্রেতারা সাধারণত রেলওয়ে লাইন ব্যবহার করে থাকেন। আর এসব দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা নিত্যদিন রেলওয়ে লাইনের ওপর এনে ফেলছে ব্যবসায়ীরা। এতে রেলওয়ের লাইন, ক্লিপ ও পাথর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়াও, লাইনের ওপরে প্রতিদিনের ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা বসে। তারা মূলত লাইনের ওপর বসে দৈনন্দিন বেচাবিক্রির কাজ করছেন। আর তারা ট্রেন আসার হুইসেল শুনে কিছু সময়ের জন্য সরে পড়ছেন। এতে রেলওয়ে লাইনের ওপর মানুষের সরব উপস্থিতি থাকছে। ফলে এতে প্রতিনিয়ত রেলওয়ে লাইনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফলের পাইকারি আড়তের প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা অহরহ ফেলা হচ্ছে রেললাইনে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা এ বিষয়টি পাকশী ডিইএনকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। কিন্তু ঐ বিষয়টি অবহিত করার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি অদ্যাবধি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা জানান, সুষ্ঠুভাবে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যে সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেললাইনের ৩৯৩/০ হতে ৩৯৫/৬ পর্যন্ত দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে রেলওয়ের পাকশী ডিইএন/২/ বরাবরে পত্র দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন ঐ পত্র দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরো জানান, গত চলতি মাসে সৈয়দপুর শহরের দুই নম্বর রেলওয়ে গেট এলাকায় রেলওয়ে লাইনের আশপাশে বসা পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দুই দফায় ঐ উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরে আবারও দোকানপাট নিয়ে বসে পড়েন পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শওকত আলী বলেন, রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঐ সব অবৈধ স্থাপনার কারণে ট্রেন চালকরা সামনে দুপাশে সঠিকভাবে দেখতে পান না। এর ফলে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।