ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪০

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারের কারণে ভয়াবহ মাদক ইয়াবা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। যতবারই কথা বলেছি, মিয়ানমার ততবারই প্রতিশ্রুতি  দিয়েছে যে, তারা ইয়াবা বন্ধের বিষয়টি দেখবে। কিন্তু তাদের প্রতিশ্রুতির পরও কাজ হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তিনভাবে কাজ করছি। ডিমান্ড হ্রাস, সাপ্লাই হ্রাস এবং সর্বোপরি মাদকাসক্তদের পুনরায় কর্মক্ষম করতে নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে কাজ করছি। তিনি বলেন, কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৮০ হাজারের ওপর বন্দি রয়েছে কারাগারে। যার বেশিরভাগই মাদকের আসামি। মাদক মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো প্রক্রিয়াধীন।

 দেশে মাদক প্রবেশের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মাদক উত্পাদন হয় না। চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহূত হয়। দেশে নানা পথে মাদক ঢুকছে। মাদকের একটি অংশ পাচার হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। অবশিষ্ট মাদক রয়ে যাচ্ছে দেশেই। ইদানীং মাদক চোরাচালানে নারীরাও যুক্ত হয়েছেন। আর মাদক ব্যবসায়ীরা শিশুদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ অতিথি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, আমরাও পারব মাদককে রুখে দিয়ে সোনার বাংলা গড়তে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব শহীদুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা থামবে না। চলমান থাকবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রত্যেক জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ শুরু করলেও এখনো ২৩  জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র করা সম্ভব হয়নি।

‘শত মতপার্থক্য সত্ত্বেও ইজতেমা হবে’

টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির দুটি অংশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা হবে এবং হচ্ছে। আসন্ন ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে ময়দান ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা হবে। বিদেশি মুসল্লিদের ভিসার সমস্যা অতিদ্রুত সমাধান করা হবে। গতকাল বিকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির (মাওলানা জুবায়ের পন্থি) শীর্ষ মুরুব্বি প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন, শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম (মাওলানা সা’দ আহমদ কান্ধলভীপন্থি) প্রমুখ।