ইরাকের বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ উত্তেজনা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ জাভে জারিফ বলেছেন, সব ধরনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী থাকবে।
টুইটারে করা এক বার্তায় তিনি বলেন, জেনারেল সোলাইমানিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ও তাকে হত্যা করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা চরম ভয়াবহ উত্তেজনা বৃদ্ধি করার শামিল। সুতরাং এই দুর্বৃত্ত পরায়নতার সব দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইরানের এই শীর্ষ কমান্ডার ছাড়াও হাশেদের উপ-প্রধান মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হয়েছেন। জেনারেল কাসেমের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস। তারা বলেছে, মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানপন্থি বিক্ষোভকারীরা চলতি সপ্তাহে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করার পর তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরাকি মাটিতে মার্কিন ও ইরানের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে গেছে। শুক্রবার সকালে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরান সংশ্লিষ্ট ইরাকি আধাসামরিক বাহিনী হাশেদ আল শাবির একটি বহরের ওপর এই হামলা করা হয়।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে এক রকেট হামলায় ইরাকে কর্মরত এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত হওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হাশেদ বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালানোর কথা বলেছিল। এদিকে হামলার পর থেকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ইরান দূতাবাসের আকাশে একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার টহল দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে আমেরিকা ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে যা চলমান উত্তেজনাকে আরো তীব্র করতে পারে।
ইত্তেফাক/এমএএম
