অদম্য বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪১

কবি লিখিয়াছেন. ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মনোরম নিসর্গ ও প্রকৃতির প্রশংসা করিয়া কবি হয়ত এই পঙিক্ত রচনা করিয়াছেন। কিন্তু গত এক দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি লাভ করিয়াছে, তাহাতে এই দেশটি অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বের সেরা বা শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসাবে বিবেচিত হইতেছে। এই অর্জনগুলি নিঃসন্দেহে গৌরবজনক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। যেমন— ইলিশ উত্পাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা দেশ এখন। গার্মেন্টস রপ্তানিতে আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। সবজি উত্পাদনে রহিয়াছে তৃতীয় অবস্থানে। চাল ও মাছ উত্পাদনে রহিয়াছে চতুর্থ অবস্থানে। আবার জাতিসংঘে শান্তি মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরক দেশ হিসাবে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ বাংলাদেশ। বর্তমানে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। স্বাধীনতার ৪৭ বত্সরে আসিয়া এইসব সাফল্য আমাদেরকে উজ্জীবিত করে নিঃসন্দেহে।

এইসব সাফল্যের পাশাপাশি সমপ্রতি আরো চারটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করিয়াছে। গত সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৮ প্রকাশ করে। তাহাতে দেখা যায়, নারী-পুুরুষের সমতার দিক হইতে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের ওপরে স্থান বাংলাদেশের। আর চারটি ক্ষেত্রে বিশ্বে একেবারে সবার সেরা। এই চারটি বিষয় হইল— ছেলে ও মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতা রক্ষা, সরকারপ্রধান হিসাবে বেশি সময় ধরিয়া একজন নারীর দায়িত্ব পালন এবং জন্মের সময় ছেলে ও মেয়ে শিশুর সংখ্যাগত সমতা। শেষেরটিতে আমাদের কোনো হাত নাই। ইহা সৃষ্টিকর্তার অনন্য দান। কিন্তু বাকি চারটিতে আমাদের যে কষ্টার্জিত অর্জন তাহা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করিয়া নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে সামপ্রতিককালে আমরা নজরকাড়া সাফল্য লাভ করিয়াছি। বর্তমানে সামগ্রিকভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রহিয়াছে। কিন্তু নব্বই দশক হইতে বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরিয়া নারী সরকারপ্রধান দায়িত্ব পালন করিতেছেন যেই ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা হইয়াছে বাংলাদেশ। অর্থাত্ সামপ্রতিককালে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত দীর্ঘকাল ধরিয়া নারী সরকারপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন নাই বা করিতেছেন না। অন্যদিকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের সমতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বরে রহিয়াছে। নারী শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতিই এই সাফল্যের মূল কারণ। বিশেষত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করা এবং উপবৃত্তি প্রদানের ফল আমরা এখন হাতে হাতে পাইতেছি। নারী শিক্ষার উন্নতির ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়াছে যাহা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করিতে সহায়তা করিতেছে।

নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা যে সাফল্য লাভ করিয়াছি তাহাতে আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগিবার কোনো অবকাশ নাই। এইক্ষেত্রে আমাদের এখনো অনেক করণীয় ও চ্যালেঞ্জ রহিয়াছে। বিশেষ করিয়া বাল্যবিবাহ হ্রাস, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ ও স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের দিকে আরো নজর দিতে হইবে। প্রতিবেশী অনেক দেশের চাইতে আমরা আর্থ-সামাজিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে উন্নতি লাভ করিতেছি, তাহাও ধরিয়া রাখিতে হইবে। আর এইজন্য নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নাই।