সুসংগঠিত দল সরকার পরিচালনায় সহায়ক :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ‘একটি সরকার সফলভাবে পরিচালনার জন্য দলকে সুসংগঠিত রাখা জরুরি। দলের শক্তিটাই সব থেকে বেশি কাজে লাগে একটা দেশকে উন্নত করতে। যেটা আমি নিজে উপলব্ধি করি এবং যে কারণে আমি সংগঠনের ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেই।’ গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘একটি সরকার সফলভাবে কাজ করতে পারবে তখনই যখন তার পেছনে দল সুসংগঠিত থাকে।’

দলের সব কার্যনির্বাহী সদস্য এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন      প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দলের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা স্মরণ করেন। যৌথসভাটি তার স্মৃতির প্রতি উত্সর্গ করা হয়। কিছুক্ষণ চলার পর যৌথসভা আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। যা আজ গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে ‘শেষ করে দেওয়া’, যেন এ সংগঠন আর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে না পারে। পঁচাত্তরের পর আমরা দেখেছি বাংলাদেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর হাজার হাজার কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মীকে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে, তাদের কারাগারে রাখা হয় এবং এখনো অনেকের শরীরে সেই অত্যাচারের চিহ্ন রয়েছে। কত মানুষকে গুম খুন করেছে—এই অত্যাচার নির্যাতনের মধ্য দিয়েও কিন্তু আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারেনি। সব বাধা পেরিয়ে এসে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এখন একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। 

দলের ক্রান্তিলগ্নে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেই তারা এই সংগঠনকে ধরে রেখেছেন।’ টানা তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এগারো বছর পূর্ণ হলো এক টানা। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে বলেছিল—বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কী হবে, বটমলেস বাস্কেট হবে। আজকে তারা সে কথা বলতে পারবে না। বরং আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি, সেটা শুধু আমাদের এখানেই না, বিশ্বব্যাপী খুবই সমাদৃত এবং স্বীকৃত।’

মুজিববর্ষ উদ্যাপন প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘১০ জানুয়ারি জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকে আমরা কাউন্টডাউন শুরু করে ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা মুজিব বর্ষ উদ্যাপন শুরু করব। বছরব্যাপী সারাদেশে অনুষ্ঠান করব।’ তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমরা আবার নব উদ্যোমে জাতির পিতার দেওয়া এই বাংলাদেশকে আরও উন্নত করব, স্বাধীনতাকে আরও অর্থবহ করব, যেন বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে।  সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাব।’