ভোটারদের মন জয় করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল ও জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহার। এ ব্যাপারে পাঠকদের নিকট প্রশ্ন রাখা হয়েছিল—ভোটার হিসেবে ইশতেহারে কী কী বিষয় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন? টেলিফোন ও ই-মেইলে পাঠানো পাঠকের সেসব উত্তর আজ প্রকাশিত হলো
ইশতেহার ঘোষণা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনী কৃত্যের একটি আবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু এই মৌসুমি চরিত্রের কারণেই কিনা, কে জানে, ইশতেহারের প্রয়োজনটাও দলগুলোর কাছে নির্বাচন-পরবর্তী মৌসুম শুরু হলেই ফুরিয়ে যায়। বিজয়ী দল তাদের ইশতেহারটি কুলুঙ্গিতে রেখে দিয়ে তাতে ধুলাবালি জমতে দেয়। তাদের কাজে ও আচরণে ইশতেহারে ঘোষিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলোর তেমন প্রতিফলন ঘটে না। আর বিরোধী দলগুলো সংসদে আসন পেলেও তাদের ইশতেহারে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, যেহেতু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য রেখেই ইশতেহার লেখা হয়। ইশতেহার ঘোষণা ও পরবর্তী সময়ে একে ভুলে থাকার চর্চাতে একটা বড় পরিবর্তন আসা উচিত।
মো. রাকিব ইসলাম
দোলাপাড়া, ডোমার নীলফামারী
আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিটি বড় দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ একটি প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ রেওয়াজ যেন বর্তমানে একটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈষম্য নিরসন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ, সড়কে নৈরাজ্যের অবসান, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতাসহ সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত অগ্রাধিকারও ইশতেহারে স্থান পেতে হবে। সমাজে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য অবসানে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্যহিস্যা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিষয়টি ইশতেহারে যুক্ত হতে হবে।
অমিত বণিক
উন্নয়ন বিশ্লেষক, উত্তরা, ঢাকা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি যে ইশতেহারগুলো দেখতে চাই : ১) চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বৃদ্ধিসহ ৩০ ঊর্ধ্বদের জন্য প্রকল্পের চাকরিগুলো নিশ্চিত করা; ২) শিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত মান বজায় রাখা; ৩) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সকল শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা; ৪) নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা। ৫) সরকারি চাকরির মতো বেসরকারি এবং প্রাইভেট চাকরিজীবীদের জন্য চাকরির নিশ্চয়তাসহ এককালীন পেনশনের ব্যবস্থা করা।
কামাল হোসেন
জগন্নাথদী, মধুখালী, ফরিদপুর
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করেছে। আবার বাংলাদেশে অবস্থান করে বিদেশেও যাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম না চালাতে পারে সে ব্যাপারে ইশতেহারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। এটা খুবই যৌক্তিক ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
এই নির্বাচনে যে দল/জোট জিতবে, তারাই দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষমতায় থাকবে। তারা কি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে চিন্তা-কল্পনায় রেখে এগোবে, নাকি এদের বিকল্প কোনো পাঠ উপহার দেবে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষমতায় থাকা দল/জোট মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিভ্রান্তিমূলক আইনের নিচে ফেলে খর্ব করবে নাকি অবারিত করবে—এই বিষয়টি প্রত্যেকের ইশতেহারে সুস্পষ্ট করা চাই।
মো. আল-আমিন ইসলাম
হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর
বিএনপি, আওয়ামী লীগ উভয় দলের ইশতেহারে মোটামুটি জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়া এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে নিয়ে একটা ঘোষণা ইশতেহারে থাকা জরুরি ছিল। তবে যে দলই ক্ষমতায় যাক, নির্বাচনী অঙ্গীকার শতভাগ বাস্তবায়নের অনুরোধ রাখি।
জয়নাব চামেলী
গংগানগর, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইশতেহারে, শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান, জনশক্তি রপ্তানি, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিশু কল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা, দরিদ্রতা নির্মূলসহ টেকসই উন্নয়নের নিশ্চয়তার বিষয়গুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।
মোহাম্মাদ হাসান
৬৯/ই, গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল ও জোটের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ইশতেহার ঘোষিত হয়েছে, ক্ষমতায় যারাই আসুন তারা তাদের ইশতেহারে যা যা অঙ্গীকার করেছেন তা যেন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গড়িমসি না করেন।
রাসেল আহমেদ
মুগদা , ঢাকা
ভোটার হিসাবে আমার প্রত্যাশা থাকবে— যানজট মুক্ত দেশ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা একান্ত প্রয়োজন।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা-১২১৯
আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলেই আমাদের মনে হয়। কারণ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের পর তাদের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছেন, যা আমাদের সাধারণ জনগণের আন্তরিকভাবে কাম্য। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসাবে আওয়ামী লীগকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন দল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ভোটারদের উচিত নির্বাচনী ইশতেহারগুলো সংরক্ষণ করে রাখা কমপক্ষে পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর যখন নির্বাচন আসবে তখন আমাদের উচিত হবে নির্বাচনের ব্যক্তিদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া। অতীতেও দলগুলো ক্ষমতায় যাবার জন্য যে ইশতেহার দিয়েছিল সেগুলো কি তারা পূরণ করতে পেরেছে?
ডা. মো. জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
আওয়ামী লীগের ইশতেহারে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য। তবে এর সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত পরিবার, মা ও শিশুদের, সরকারি চাকরির বয়সসীমা, মধ্যবিত্তের মধ্যে যারা আর্থিক সমস্যায় রয়েছে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলে ভালো হবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর , ঢাকা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে রয়েছে অঙ্গীকার। খুবই সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ইশতেহার বটে। তবে ইশতেহারের বাস্তবায়নই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছি।
সালমা আফরোজা
নিবেদিকা মহিলা হোস্টেল , ফার্মগেট, ঢাকা
সব দলেরই ইশতেহারে বেশকিছু নতুন নতুন অঙ্গীকার রয়েছে। তবে শুধু লিপিবদ্ধ থাকলেই হবে না, যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, বাস্তবায়ন করা জরুরি।
মো. মাসুম আহমদ
শিকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
আমাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রতিশ্রুতি পূরণে অনেক বেশি যত্নবান হবেন।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
পূর্ব শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে সবকটি বড় রাজনৈতিক দল ও ছোট দলসমূহ। আমি মনে করি এসব ইশতেহারের মধ্যে নতুন তেমন কিছু অন্তর্ভুক্তির দরকার নেই। এ ক্ষেত্রে কথা ও কাজের গরমিল কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
মুন্সীগঞ্জ
আমরা ভোটার হিসেবে বলতে চাই, ইশতেহার যে সমস্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।
মো. ইফতেখার হোসেন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী, চাঁদপুর
ইশতেহারে কয়েক অবশ্যই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী, দলিত জনগোষ্ঠীসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের থাকা ছেলেমেয়ে প্রতিবন্ধী ও যারা অসহায় তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এস. কে. মো. রমিজউদ্দিন
আয়কর আইনজীবী, পুরানা পল্টন, ঢাকা
আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের ইশতেহারে যে পরিমাণ প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি, তাতে করে সাধারণ ভোটাররা অনেক বেশি বিভ্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচনে ঘোষিত ইশতেহারে যেভাবে রমরমা ও কথার ফুলঝুড়ি ছড়ানো হচ্ছে, তাতে করে এই ইশতেহার বাস্তবে কতটুকু কার্যকর হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মো. রবিউল হোসেন রবি,
মতিঝিল, ঢাকা
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট যে ইশতেহার দিয়েছিল তা তারা বাস্তবায়ন না উল্টো বাংলাভাই বাহিনী, জঙ্গি সন্ত্রাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি করায় জনগণকে নাভিশ্বাসে ফেলেছিল। ১০ বছর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় জন প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। এবারও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন ঘটবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
ইশতেহারে ঘোষণা করে যদি সেটা পূরণ করা না হয়, তাহলে সেটা হবে ভোটারদের সাথে রীতিমতো এক ধরনের নাটক। জনগণ তেমনটি প্রত্যাশা করে না।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ
স্টেডিয়াম সড়ক, সদর, ফেনী
ইশতেহারে জনগণের প্রত্যাশা হলো, প্রথমত রাজনৈতিক সুন্দর পরিবেশ এবং কার্যকর সংসদের প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস কমানোর উদ্যোগ এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা।
মো. আসির জুবায়ের
সড়ক-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা
আমি তিনটি দলের ইশতেহার শুনেছি এবং পত্রিকায় পড়েছি। ভূমিহীন কৃষকদের নিয়ে ইশতেহারে কোনো প্রকার আলোকপাত নেই। ছিন্নমূল মানুষকে নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। ছিন্নমূল মানুষদের কে করবে লালন-পালন? কে দেবে উষ্ণতা এই শীতের রাতে?
খন্দকার কামরুজ্জামান
উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা
সত্যিকার অর্থে নির্বাচনী ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন হবার কথা। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, আমাদের দেশে নির্বাচনী ইশতেহার ভোটে জয়লাভ করার পর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায় না। তাই আমাদের প্রত্যাশা, এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
মো. সিকান্দার আলী সাগর
কনকর্ড টাওয়ার, শান্তিনগর, ঢাকা
ইশতেহারে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষ, কৃষক ও বেকারদের নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
আমরা মনে করি সবদলের অবশ্যই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন দেখাতে হবে। তা না-হলে নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়টির সত্যিকার প্রতিফলন ঘটবে না।
আইরিন সুলতানা (সন্জু)
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
