বিদেশ যেতে প্রয়োজন পাসপোর্ট। এ কথা সত্য আমাদের দেশে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট মেলে না। কেউ বৈধভাবে পাসপোর্ট করতে গেলে তার পদে পদে হয়রানি, বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আর সময় ক্ষেপণ। দালালকে ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট করতে তেমন কাগজপত্র না লাগলেও সরাসরি গেলে কাগজপত্র আর দলিল-দস্তাবেজের চাহিদার শেষ থাকে না। ভাগ্য ভালো হলে কেউবা আবেদনপত্র জমা দিতে পারলেও পুলিশি রিপোর্টের জন্য তাকে টাকা দিতেই হয়। কখনো কখনো পুলিশি রিপোর্ট দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। এভাবে এক মাসের পাসপোর্ট তিন মাসেও পাওয়া সম্ভব হয় না। এসব কারণে বাধ্য হয়েই দালাল কিংবা অফিসের স্টাফদের ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট পেতে হয়। সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা সরকারি ফি হলেও দালালরা নিয়ে থাকে সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে নেওয়া হয় অতিরিক্ত ১১০০ টাকা। জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ৬ হাজার ৯০০ টাকা হলেও দালালকে দিতে হয় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালচক্র। এই দালালচক্রকে প্রতিহত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। যদিও সরকারিভাবে পাসপোর্ট অফিস ‘দালাল ও হয়রানিমুক্ত’ বলে প্রচার চালানো হলেও বাস্তবচিত্র উলটো। দালালচক্র বরাবরই সক্রিয়। পরিশেষে, পাসপোর্ট অফিস হয়রানি ও দালালমুক্ত করে গড়ে তুলতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. মানিক উল্লাহ
মাজগ্রাম, বেতিল হাটখোলা, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ
