কুয়াশার জাল তখনো ঘনীভূত হয়নি। দিনের আলোয় সাকিব আল হাসান টসটা হারার পরেই অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরের দৃশ্যপটে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অগ্নিমূর্তি ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার গোধূলির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সময়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল বাংলাদেশের ব্যাটিংটাকে ‘ঝড়ের বিজ্ঞাপন’ বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব। কুয়াশার চাদর ভেদ করে লিটন দাস-সাকিব আল হাসানদের ব্যাট থেকে ক্রমাগত বল উড়ে গেছে বাউন্ডারির বাইরে।
ইনিংস জুড়ে দর্শকদের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়েছে শেরেবাংলার গ্যালারি। সিলেটে প্রথম ম্যাচে হারলেও গতকাল মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের তুলোধুনো করেছেন সৌম্য সরকার-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। টি-টোয়েন্টির মারকাটারি ব্যাটিংয়ে দর্শকদের বিনোদিত করেছেন তারা। চার-ছক্কার মিছিলে শোভিত ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং।
হাফ সেঞ্চুরি করেছেন শুধু লিটন দাস। সাকিব-মাহমুদউল্লাহর দুটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস, সৌম্যর ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসে চার উইকেটে ২১১ রানের বড় স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ।
যা এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে সর্বোচ্চ ২১৫ রান ছিল চলতি বছরের মার্চে কলম্বোর প্রেমাদাসায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২১১ রানের এই স্কোরটা আবার মিরপুরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। একই সঙ্গে টি- টোয়েন্টিতে এই ভেন্যুরও এটি দলীয় সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ২০৪ রান ছিল নিউজিল্যান্ডের করা, ২০১৩ সালের নভেম্বরে।
গতকাল গোটা ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ২২টি চার ও ছয়টি ছক্কা মেরেছেন। বাউন্ডারিতেই এসেছে ১১২ রান। ধুন্দুমার ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেছিলেন লিটন-সৌম্য। শেষটা করেছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কোটরেল তিনটি চার মেরে ঝড়ের শুরুটা লিটনের ব্যাটে। পরের ওভারে উইন্ডিজ অধিনায়ক ব্রেথওয়েটকে মেরেছেন দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। পঞ্চম ওভারে শর্ট মিড উইকেটে কোটরেলকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তামিম (১৫)।
উইকেট পড়লেও আক্রমণের ধারা থামেনি লিটনের ব্যাটে। দ্রুতগতির বোলার ওশানে থমাসকে ষষ্ঠ ওভারে দুটি ছক্কা মেরেছেন ডানহাতি এই ওপেনার। ২৬ বলেই পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। কিছুটা রয়ে সয়ে শুরু করা সৌম্য ১০ম ওভারে মেরেছেন দুটি চার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে অ্যালেনকে দর্শনীয় ছক্কায় বল গ্যালারিতে পাঠান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১২তম ওভারে ব্রেথওয়েটের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। ২২ বলে ৩২ রান করেন তিনি। ৬৮ রানের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটনও।
একই ওভারের শেষ বলে ৩৪ বলে ৬০ রান (৬ চার, ৪ ছয়) করে ফিরেন তিনি। মুশফিকও (১) উইকেটে থিতু হতে পারেননি। তবে তার বিদায়ের ধাক্কাটা অনুভূত হয়নি মাহমুদউল্লাহর বিস্ফোরক শুরুতে। উইকেটে এসেই কোটরেলকে তিন বলে তিনটি চার মেরেছেন তিনি। সাকিব-মাহমুদউল্লাহর যুগলবন্দিতে বাকি সময়টাও ছিল উপভোগ্য। পঞ্চম উইকেটে ৯১ রানের জুটি গড়েছেন তারা। তিনটি করে চার মেরে সাকিব তোপ দাগিয়েছেন কেমু পলের ওপর, মাহমুদউল্লাহর ব্যাটের তাপটা টের পেয়েছেন ওশানে থমাস। ১৯তম ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরটা ২০০ পার হয়।
তবে শেষ দুই ওভারে ১৬ রান আসায় নিজেদের সেরা স্কোরকে ছাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। চার রানের জন্য দ্বিতীয় স্থানেই থাকলো গতকালকের সংগ্রহ। মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে সাতটি চারে অপরাজিত ৪৩, সাকিব ২৬ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৪২ রান করেন। উইন্ডিজদের পক্ষে কোটরেল দুটি, থমাস ও অ্যালেন একটি করে উইকেট পান।
