‘এসে গেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ এমন এক বার্তায় শুক্রবার থেকে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের টুইটার ট্রেন্ডে শীর্ষে ছিলো #WorldWarIII. বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে বেশ কিছু ওয়েব সাইট বন্ধ হয়ে যায়।
সিএনএন জানায়, ভুল এক বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে এ সকল ওয়েব সাইটে। সেই সঙ্গে সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য একই সঙ্গে অনেকে সরকারি বেশ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় তা ‘ক্রাশ’ করে। ফলে আরো বিভ্রান্ত হয়ে পরে দেশটির মানুষ।
অবশ্য শেষ পর্যন্ত এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’। সেখানে বলা হয়, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে বেশ কিছু ওয়েব সাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তা পুনরায় সচল করা হয়েছে।
The Selective Service System is conducting business as usual. In the event that a national emergency necessitates a draft, Congress and the President would need to pass official legislation to authorize a draft. pic.twitter.com/M4tY2dLoX1
— Selective Service (@SSS_gov) January 3, 2020
শুক্রবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখতে রাভানচি বলেন, আমেরিকা যে হামলা চালিয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা। এই হামলা একটি নতুন অধ্যায় যা ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের সূচনা করলো। সামরিক হামলার জবাব সামরিক হামলা দিয়েই হয়। আর সেটা কখন, কিভাবে এবং কোথায় হবে ভবিষ্যতই তা বলে দেবে।’
আরও পড়ুন: দুই মেয়ে নিয়ে সুস্মিতা সেনের নাচ ভাইরাল
সিএনএনের অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইরান এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার সব ধরনের অধিকার রাখে।’
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার সৈন্য মোতায়েন করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব সৈন্য কুয়েতে মোতায়েন করা হতে পারে। এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করছে।
ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সোলেইমানি নিহত হন। ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা করা হয়।
Due to the spread of misinformation, our website is experiencing high traffic volumes at this time. If you are attempting to register or verify registration, please check back later today as we are working to resolve this issue. We appreciate your patience.
— Selective Service (@SSS_gov) January 3, 2020
উল্লেখ্য, সিলেক্টিভ সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে নতুন রিক্রুটমেন্ট করে। এটি সেচ্ছায় সেবা দানের জন্য তৈরি। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই এই সার্ভিসে নিজেদের নাম লেখাতে ভিড় করেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
