পাঁচফোড়ন

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৭

 

/ বাসু দেব নাথ

v

টুটন বলে ছোটনরে

—ছোটন আর গাড়ি চালাব না।

—কেন রে?

—আগে মানুষ মারলে শুধু ৫০ হাজার টাকা দিলেই হতো। এখন নাকি সেটা ৫ লাখ হবে, তাই ভয় করে।

—তাহলে কি আগে জেনেশুনে মারতি?

—না মানে! ভয়টা কম ছিল অন্তত।

v

—ছোটন, আজ লাইসেন্স না থাকায় গাড়ি ধরে ফেলেছিল।

—তো কী করলি?

—বাম হাতের জাদু দেখিয়ে ডান হাতে টাটা দিয়ে চলে এসেছি।

—কঠোর আইন বাপু!

v

—বল তো ছোটন, টাকা দিয়ে পৃথিবীতে কী কেনা যায় না।

—সুখ কেনা যায় না।

—তুই বাস্তবতা দেখিস নাই রে পাগলা!

v

—কীরে, কিসের পূজা করছিস?

—টাকার পূজা।

—কেন রে?

—তুই জানিস না ‘মানি ইজ দি সেকেন্ড গড’?

v

—কীরে বন্ধু, কী করিস?

—মুলার চাষ করি।

—হুর, মুলা তো গরুও খায় না!

—ওরে ভাই পেঁয়াজের পিছনে অনেক সবজি লাইন ধরেছে। মুলার কেজি ষাটোর্ধ্ব।

v

—বন্ধু নাহিদরে পুলিশে গ্রেপ্তার করেছে সাত দিন হয়েছে।

—কেন, কী করেছে সে?

—আর বলিস না, গুজবে কান দিয়া ১০ মণ লবণ কেনার দায়ে!

v

—পাশের বাড়িতে কাল রাতে ডাকাতি হয়েছে।

—পত্রিকায় তো দেখলাম না।

—আরে কী বলিস! আমাদের সাংবাদিক মগা ভাইয়ের শালগমের বাম্পার ফলন রিপোর্টটি দেখলি না?

—হুম বুঝছি।

v

—দেখলি ছোটন, তারা দুই বন্ধু মারামারি করছিল আমি গেলাম মীমাংসা করতে।

—তো কী হলো?

—দুইজনে মিলে আমাকেই ধুয়ে দিল।

—এটাই সায়েন্স।

v

—ছোটন, পৃথিবীর অন্যতম বিজয় কোনটি জানিস?

—কোনটি?

—লোকাল বাসে একটি খালি সিট দখল করা।

v

—ছোটন জানিস? লিপন আমার প্রিয় বন্ধু ছিল।

—তো এখন কী অবস্থা?

—একদিন ৫০০ টাকা বাকি নিয়েছিল। এখন আর আমাকে চেনে না।

—৫০০ টাকার বন্ধুত্ব। ভাগ্য ভালো যে ১০০০ নেয়নি।

v

—এলাকায় একটি চোর আছে। ধরা খেলেও কারো কিছু করার সাহস হয় না।

—কেন রে?

—বড়ো দলের নেতা।

v

—আজ অনেক দিন পর একটা বিনোদনমূলক হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান দেখলাম।

—কী বলিস? মি. বিন নাকি চার্লি চ্যাপলিনের?

—আরে ধুর। বাংলাদেশি টক-শো।

v

—শীতকালের আরেকটি নাম বল তো দেখি?

—কী আর, বিয়েকাল!

v

—ছোটন, আমার ঠাট্টা-তামাশা একদম ভালো লাগে না।

—তো এখন কী করছিস?

—কী আর করব! ঠাট্টার জন্য ঠাট্টা-ঠক লিখছি।

 

সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম