‘আমার গানের প্র্যাকটিস শুনে মা বিরক্ত হয়ে বলত, একটা মানুষ কীভাবে সারাক্ষণ বিকট চিত্কার করে যেতে পারে?’

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৭

—অবন্তী সিঁথি

‘সারেগামাপা’র গত আসরে গানের পাশাপাশি বিচিত্র ধরনের হুইসেল বাজিয়ে সকলকে মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। এবার তিনি ঠাট্টার পাঠকদের জন্য হুইসেল বাজিয়েছেন। কিন্তু সেটি যেহেতু পড়ার উপায় নেই, তাই হুইসেল বাজানোর পাশাপাশি তার যে ছোট্ট সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছিল, সেটিই তুলে ধরেছেন সত্যজিত্ বিশ্বাস

ঠাট্টা :হুইসেলিং আর অবন্তী সিঁথি এই কম্বিনেশনের রহস্য কী?

অবন্তী সিঁথি :প্রতিটা মেয়েই কিন্তু স্কুল-কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হুইসেলিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। যে সাউন্ডটা ভেসে আসে, সেটা আমার খুব ভালো লাগে।

 

ঠাট্টা :বলেন কী? ছেলেদের শিস দেওয়াটা এনজয় করতেন?    

অবন্তী সিঁথি :না, আসলে তা না। ব্যাপারটা ভালো না লাগলেও শিসের সাউন্ডটা খুব এনজয় করতাম। বাসায় আমরা  দু বোন চেষ্টা করে দেখতাম কে এই সাউন্ডটা ভালো করে পারে। শুরুটা আসলে ওখান থেকেই। ছোটবেলা থেকেই গান গাইতাম। আমার গানের প্র্যাকটিস শুনে মা বিরক্ত হয়ে বলত, একটা মানুষ কীভাবে সারাক্ষণ বিকট চিত্কার করে যেতে পারে? যখন মা খুব বিরক্ত হয়ে যেত, তখন হুইসেল বাজানো শুরু করতাম। মা যখনই বকা দিত, গান না গেয়ে হুইসেলিং করতাম। সেই থেকেই গানের মাঝখানে হুইসেলিংটা করা শুরু করি। ২০১২-তে ক্লোজআপ ওয়ান-এ আমার নাম হয়ে গেল হুইসেল কুইন। 

 

ঠাট্টা :হুইসেল কুইনের আর কী কী নাম আছে?

অবন্তী সিঁথি :শিস কন্যা, শিস নাগিন। এ তো গেল শিস দিয়ে। তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই একটু নাদুস-নুদুস বলে অনেকে ডাকত কুমড়া, পটল, টমোটো। এসব নাম তো আছেই, তাছাড়া এখন আরো কত নাম যে যোগ হয়েছে। এই তো সেদিন যাচ্ছি, রাস্তা দিয়ে একজন বলে উঠল এই কাপ-পিরিচ। সাথে থাকা বান্ধবী আমাকে বলল, এই তোকে ডাকছে। আমি তো অবাক, আমাকে কাপ-পিরিচ নামে ডাকবে কেন? পরে বুঝলাম, ও আচ্ছা, আমি তো কাপ-পিরিচ বাজাই, সেজন্য আমার নাম দিয়েছে কাপ-পিরিচ।

 

ঠাট্টা :কাপ-পিরিচ বাজাতে গিয়ে ভাঙে না?

অবন্তী সিঁথি :আমি যা বাজাই ভাগ্য ভালো ওগুলো কাচের না। কাচের কাপ বা কাচের গ্লাস থেকে আসলে সে সাউন্ডটা আসে না। নাহলে কী হতো, তা অবশ্য বলতে পারি না।

 

ঠাট্টা :অবন্তী সিঁথি কি আমাদের গ্লাস বাজানোর গোমড়টা ফাঁস করে দেবে?

অবন্তী সিঁথি :হাঃ হাঃ হাঃ! ধারনা দেওয়া যেতে পারে। আমি কী করছি, কোনটার ওপর রেখে করছি, এটা ম্যাটার করে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় দুটো গ্লাস নিয়ে করছি কিন্তু কীসের গ্লাস সেটা ম্যাটার করে, অ্যান্ড দ্যাট ইজ সায়েন্স।

 

ঠাট্টার পাঠকদের উদ্দেশে কী বলবেন?

অবন্তী সিঁথি :ঠাট্টা নিয়ে তো নতুন কিছু বলার নেই, যেহেতু এটা সর্বজন গৃহীত। আমি গানের মানুষ, আমি সবাইকে বলব বেশি বেশি বাংলা গান শুনতে। বিশেষ করে যারা যারা নতুন গান গাইছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা দুটোই করতে। তাহলে শিল্পীরা আরো বেশি উত্সাহ পাবে।