ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৮

 পাভেল হোসাইন ইমরান

 

—কীরে অনেকদিন পর এদিকে এলি?

—হ্যাঁ দোস্ত। অনেক ব্যস্ত থাকি তো, তাই আসতে পারি না।

—হ্যাঁ সেইটাই। বয়স হচ্ছে। বুড়ো হচ্ছিস। এখন ব্যস্ত হবি না তো কখন হবি?

—হুম।

—তা কী কাজ করিস?

—দোস্ত আমি এখন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

—ওরে খোদা খাইছেরে! কেমনে কী!

—এই তো এমনি এমনি!

—নারে মামা কপাল লাগে, কপাল! ছোটবেলায় তোর এই বড়ো সাইজের কপাল দেখেই ভাবছিলাম, তুই জীবনে অনেক বড়ো হবি। আজ তা সত্য প্রমাণিত হলো।

—আরে নাহ, কী যে বলিস না! চুল পড়তেছে। টাক হচ্ছি।

—রাখ ব্যাটা চুল। চুল তো গরুর লেজেও থাকে। আর টাক আভিজাত্যের প্রতীক।

—হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস।

—তুই আমার বন্ধু। এখন এত বড়ো ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিস। তোকে আজ আমি ট্রিট দেব। আয় আমার সাথে।

এই বলে রতন ভাই ঝাক্কাসদার হাত টেনে একটি চায়ের টংয়ে নিয়ে গেলেন। ঝাক্কাসদা কোনো বাধা দিলেন না। সুবোধ বালকের মতো রতন ভাইয়ের পিছে পিছে হেঁটে এসে চায়ের টংয়ের বেঞ্চিতে বসলেন।

রতন ভাই টং দোকানদারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মামা, আমার বন্ধুর জন্য একটা স্পেশাল কাটিং চা বানাও।’

—কোন কাটিং?

—আরে ঐ যে তুমি যেই পিয়ংইয়ং কাটিং চাটা খাওয়াও না আমগো। ঐটাই।

বায়োলোজিক্যালি মাসালা চা। কিন্তু ফিজিক্যালি সেই পিয়ংইয়ং কাটিং চায়ের কাপ দুই বন্ধু হাতে নিল। রতন ভাই এক সিপি চা মুখে ঢেলে দাদাকে প্রশ্ন করলেন, তা বন্ধু, তুই কীভাবে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলি?

—টো-টো করে ঘুরে বেড়িয়ে।

—মানে?

—আরে আমি সারাদিন টো-টো করে ঘুরে বেড়াই তো। তাই আমার বাবা আমার উপাধি দিয়েছে, টোটো কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

রতন ভাই শকড খেয়ে থমকে গেলেন। তাড়াহুড়োয় পিয়ংইয়ং কাটিং সাহেব তার গলায় আটকে গেল। তিনি কোনো জবাব দিতে পারলেন না। তিনি শুধু হুক হুক করে কাশতে থাকলেন।

সরকারি তিতুমীর কলেজ