দিনাজপুর অফিস
তীব্র শীতে কাঁপছে দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরের জনপদ। হিমেল বাতাস আর তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। এরপর থেমে নেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ছুটছে ভোটারদের কাছে।
গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে দিনাজপুরে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এই বৃষ্টি গত মঙ্গলবার চলে দিনভর। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সাথে শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আর এতে কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে বৃষ্টি না থাকলেও সূর্যের তেমন দেখা মিলেনি।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃষ্টিপাত আর হিমেল বাতাসের কারণে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ক্রমান্বয়ে এই তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে জানান তিনি।
তীব্র শীতের কারণে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। এদিকে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে দিনাজপুরের ৬টি আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। দিনাজপুরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরা কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও): সোমবার থেকে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় ও মৃদু হিমেল হাওয়ায় পীরগঞ্জে শীত জেঁকে বসেছে। উপরন্তু পৌষের শুরুতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়াতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ। শীত ও শীতজনিত রোগ শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যাই বেশি। বুধবার সকালে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে যবুথবু হয়ে কাজের সন্ধানে যেতে দেখা গেছে। শীত বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের বেশ ভিড় বেড়েছে।
গরম কাপড় বিক্রেতা আব্দুর রহমান ও নাজির হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে কাপড় কিনতে হচ্ছে। মাত্র ৩/৪ মাসের ব্যবসা। তারপরেও অল্প লাভে বিক্রি করছি।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ জানান, শীত মোকাবিলায় ২ হাজার ৫শ’ কম্বল মজুদ রয়েছে। আরো শীতবস্ত্রের চাহিদা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি।
তানোর (রাজশাহী):উত্তরের হাওয়া প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পৌষের প্রথম প্রহরে শীতের দাপটে কাতর হয়ে পড়েছে তানোর উপজেলার শ্রমজীবী মানুষ। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের এই জনপদের পথ-ঘাট। বিশেষ করে গত দুই দিনে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ঘন কুয়াশার কারণে আশপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বেড়েছে শীতের তীব্রতাও। হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছেন পুরো উপজেলার শ্রমজীবী মানুষগুলো।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এমন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে বোরো বীজতলা ও রবি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে সেক্ষেত্রে বীজতলায় পলেথিন দিয়ে ডেকে দিলে ক্ষতি হবে না। আর আগাম আলুচাষিদের গাছ বড় হলে কোল্ড ইনজুরি ও আলুতে লেটবল্টাইট (পচন) দেখা দিতে পারে।
