রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি কমিশনের স্লিপ প্রদান করা হবে মর্মে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। আগামী ১৬ জানুয়ারি আমাদের স্লিপ প্রদান করা হবে।
বিজেএমসি সূত্র জানায়, আমরণ অনশনের সময় খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের মধ্যে যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিল বাদে বাকি সাতটি পাটকলের উত্পাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ পাটকলগুলোতে প্রতিদিন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। সেখানে চালু থাকা ঐ দুটি পাটকলে উত্পাদন হয়েছে মাত্র ৮৬ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন। পাটকলগুলোতে প্রতিদিনের উত্পাদিত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সে হিসাবে শ্রমিকদের পাঁচ দিনের অনশনে ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
আরও পড়ুন: বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অর্থ পাচার রোধে উদ্যোগ
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও ১১ দফা দাবিতে অনশন শুরু করেন শ্রমিকরা। সর্বশেষ ২ জানুয়ারি রাতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাটকল শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এরপর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।

