এই পাঠশালায় সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পড়বে সাধ্যমতো বেতন দিয়ে, আর অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পড়বে ফাউন্ডেশনের টাকায়। তাদের এই পরিকল্পনার কথা জেনে অনেকেই এগিয়ে আসেন। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক ও গ্রামবাসী। একখণ্ড জমির ওপর অস্থায়ীভাবে চলছে এই স্কুল।
আহসান জোবায়ের
এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকায়নি তারা। কিন্তু নানা সামাজিক কাজকর্মে নিজেদের ব্যস্ত রাখে সারাক্ষণ। বলছিলাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কয়েকজন তরুণের কথা। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ ২০১৮ সালে গঠন করেন সমাজকর্ম ভিত্তিক সংগঠন ‘কারিগর ফাউন্ডেশন’। শুরুতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কর্মকাণ্ড। পরে সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে। একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে তারা। নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন সেখানে। সমাজের সচ্ছল-অসচ্ছল পরিবারের সবাইকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করবে তাদের স্কুল।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফুয়াদ খন্দকার ও তার বন্ধু ইয়াসিন আরফাত নিলয়, নাফিস ইমতিয়াজ রাতুল, মাহমুদ হাসান, শেখ সালাহউদ্দীন, আশিকুর রহমান মিলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আমবাগ গ্রামে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আমবাগ পাঠশালা’।
এই পাঠশালায় সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পড়বে সাধ্যমতো বেতন দিয়ে, আর অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পড়বে ফাউন্ডেশনের টাকায়। তাদের এই পরিকল্পনার কথা জেনে অনেকেই এগিয়ে আসেন। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক ও গ্রামবাসী। একখণ্ড জমির ওপর অস্থায়ীভাবে চলছে এই স্কুল। স্কুলের বেঞ্চ ও অন্যান্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এভাবে আর্থিকভাবে সব শ্রেণির সন্তানদের একই মানের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের চমকপ্রদ পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে আমবাগ পাঠশালা। স্কুলটিতে ২০১৯ সালে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৪২ জন। এর মধ্যে ২২ জন বেতন দিয়ে পড়লেও একদম ফ্রি পড়েছে ২০ জন ছাত্রছাত্রী। ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন প্রফেসর ড. সালেহ হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন সাকু। নতুন বছরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন আরিফুর রহমান মাহিন।
নতুন বছরে আরো ৫টি এলাকায় ফ্রি কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারিগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তারা। ধীরে ধীরে কোচিং থেকে স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। নতুন বছরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাহেনা, বেলাবো, ভরত এবং ঢাকার সাভার ও ডেমরায় এই কোচিং চালু করার পরিকল্পনার বলে জানান ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। এছাড়া প্রতিবছর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গরিব বাচ্চাদের খাতা-কলম, ঈদের পেশাক, ইফতার সামগ্রী দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফুয়াদ খন্দকার বলেন, ‘এই উদ্যোগে আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। আশা করছি ২০২০ সালে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হবে শতাধিক। আমরা সমাজের সব শ্রেণির সন্তানদের স্কুলে নিয়ে আসতে চাই। এছাড়া এ বছর থেকে যে কেউ চাইলে একজন বাচ্চার সারাবছরের খরচের দায়িত্ব নিতে পারবেন।’
স্কুলের জন্য ব্যানার ফেস্টুন লাগাচ্ছেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তারা। স্কুলে পড়াচ্ছেন ফাউন্ডেশনের কর্মীরাই। কেউ দিচ্ছেন স্বেচ্ছাশ্রম, কেউ নিচ্ছেন নামমাত্র পারিশ্রমিক। তাদের স্বপ্ন একদিন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সন্তান একই মানের শিক্ষা পেয়ে বড় হবে। বৈষম্যহীন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।
