সমাজতন্ত্র অবসানের ৩০ বছর

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৪

গণতন্ত্রের প্রভাব নিয়ে পূর্ব ইউরোপ দ্বিধাবিভক্ত

শফিকুর রহমান রয়েল

 

সাবেক পূর্ব ইউরোপ থেকে সমাজতন্ত্রের বিদায়—দেখতে দেখতে কেটে গেল ত্রিশটি বছর। এই দীর্ঘ সময় পর সাবেক পূর্ব ইউরোপীয় ব্লকের অনেকেই সমাজতন্ত্রের যবনিকাপাতের মাধ্যমে আসা স্মারক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠলেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিন্তু একই সময়ে অনেকেই আবার বর্তমানের ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে বেজায় সন্তুষ্ট; আবার কেউ কেউ ভবিষ্যত্ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ১৪টি দেশসহ ইউরোপের মোট ১৭টি রাষ্ট্রের ওপর পিউ রিসার্চ ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে বের করে এনেছে কেন্দ্রীয় ও পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ লোক গনতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতিকে আলিঙ্গন করলেও তাদের এ সমর্থন সার্বজনীন দৃঢ়তা বেশ খানিকটাই দূরে। উদাহারণস্বরূপ পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের ৮৫ শতাংশ লোকই গণতন্ত্রের ফলশ্রুতিতে আসা পরিবর্তনকে মনেপ্রাণে মেনে নিয়ে সমর্থন করলেও বুলগেরিয়া, ইউক্রেন ও রাশিয়ার ৫৫ শতাংশেরও কম লোক গণতান্ত্রিক পরিণতি নিয়ে ওরকম উন্মাদনা প্রকাশ করছে। দেশভেদে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত ব্যাপক ভিন্নতা থাকার পেছনে যৌক্তিকতা হচ্ছে একেক দেশে একেক রকম অনুভূতি বিরাজ করছে গণতন্ত্রের পরিণতির বিষয়ে। ১৯৮৯-৯১-এর স্মরণীয় ঘটনাসমূহের পর সুনির্দিষ্ট দেশ অর্থনৈতিকভাবে কতটা অগ্রসর হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করছে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব। বার্লিন প্রাচীর ও সরকারগুলোর পতনের সঙ্গে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যাচাইয়ের পরই তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে সতর্কতার সঙ্গে, এ ব্যাপারে আবেগ খুব একটা কাজে দিচ্ছে না।

অধিকাংশ পোলিশ, চেক ও লিথুনিয়ান এবং হাঙ্গেরিয়ান ও স্লোভাকদের মধ্যে ৪০ শতাংশ লোকই এখন মনে করে ৩০ বছর আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছে। অন্যদিকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও বুলগেরিয়ার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মনে করছে এখনকার চেয়ে ৩০ বছর আগেই বরং ভালো ছিল। কেন্দ্রীয় ও পূর্ব ইউরোপের লোকজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তারা প্রধানত কিসের ভিত্তিতে বলছে যে, ৩০ বছর আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো আছে? ৬৫ শতাংশই বেছে নিয়েছে শিক্ষাকে, তারা মনে করে আগের তুলনায় শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ৬১ শতাংশের অভিমত, উন্নয়ন ঘটেছে জীবনমানের। জাতীয় গর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করে ৫৮ শতাংশ লোক। এবার উলটো দিকটা দেখি, আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তুষ্ট ৪৪ শতাংশ লোক। পারিবারিক মূল্যবোধের অবনতি ঘটেছে বলে মনে করে শতকরা ৪১ জন লোক। সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে। ৫৩ শতাংশ লোকের দৃঢ়বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক যুগ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবার মানের নাটকীয় অবনতি ঘটেছে।

সাবেক সব কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র জুড়ে চালানো জরিপে ধরা পড়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার বিষয়ে হতাশ। সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ইস্যু যেমন চাকরি ও অসমতা বৃদ্ধির বিষয়েও তারা বিশেষ ক্ষ্যাপা।  রাজনৈতিক এলিটদের ওপর তারা এক কথায় মহাক্ষুব্ধ। আমজনতার সঙ্গে কোনো সংস্পর্শ না রেখেই তারা স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। ইউরোপীয় দেশগুলোর ৬৯ শতাংশ লোকই রাজনীতিবিদদের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে একমত পোষণ করে না। রাশিয়া ও ইউক্রেনের নির্বাচিত কর্মকর্তারা জনগণ কী ভাবছে বা তাদের মতামতের কোনো তোয়াক্কাই করেন না। তারা এমন কর্মের সাহস অকারণেই দেখান যে, তারা স্পষ্টভাবেই জানেন যে, সাধারণ লোকজনের দৌড়টা কতদূর।