মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মৃতদেহ ইরানে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মৃত্যুতে আয়োজিত শোক মিছিলে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। আগামী কয়েক দিন ধরে তার এই শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলবে। ৭ জানুয়ারি তাকে নিজ শহর কেরমানে দাফন করা হবে।
এদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে সেদেশের পার্লামেন্ট। অন্যদিকে কেনিয়ায় মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও ডয়চেভেলের
লাখো জনতার শোক মিছিল :ইরান প্রেসের তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, আহভাজ শহরে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। শনিবার ইরাকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও অংশ নিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষজন ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করেন এবং স্লোগান দেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’। শহরের অনেকগুলো রাস্তা জুড়ে মিছিল চলে। তাদের অনেকের হাতে ছিল সোলেইমানি এবং ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি। তার মৃত্যুতে কয়েক দিন ধরে শোক পালন করতে যাচ্ছে ইরান ও ইরাকের সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার মার্কিন এক হামলায় কাসেম সোলেইমানিসহ মোট ছয় জন নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু মাহদি আল-মুহানদিস যিনি ইরানের সমর্থনপুষ্ট খাতিব হিজবুল্লাহ গ্রুপের কমান্ডার এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের একটি জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটের নেতা ছিলেন।
বাগদাদের গ্রিন জোনে হামলা
কাসেম সোলেইমানির জানাজার বিশাল মিছিলের কয়েক ঘণ্টা পরে বাগদাদ অঞ্চল কেঁপে ওঠে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে। সুরক্ষিত গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এমন একটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। ইরাকের রাজধানীর উত্তরাংশের বালাদ বিমান বন্দরের কাছে বেশ কয়েক জনকে গুলি করা হয়, যেখানে মার্কিন বাহিনীর বাস। তবে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বলছে, হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
‘বিদেশি সৈন্য ইরাক ছাড়ো’
ইরাক থেকে সমস্ত বিদেশি সৈন্যদের চলে যাওয়ার আহ্বান সম্বলিত এক প্রস্তাব সেদেশের পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে। কোনো কারণেই যেন বিদেশি সৈন্যরা ইরাকের আকাশ, স্থল এবং জলসীমা ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয় ঐ প্রস্তাবে। ইরাকে বর্তমানে আমেরিকার প্রায় ৫ হাজার সৈন্য রয়েছে। ইরাকের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি সুসম্পর্কের খাতিরে মার্কিন সৈন্যের ইরাক ছাড়া উচিত বলে উল্লেখ করেন।
যুদ্ধ ঘোষণা ইরানের!
মুসলিমদের পবিত্র শহর কোমের জামখারান মসজিদ থেকে লাল পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইতিহাসে এটিই মুসলিমদের নিকট পবিত্র এই গম্বুজের ওপরে লাল পতাকা ওড়ানোর প্রথম ঘটনা। এর অর্থ হলো ইরানের জনগনকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলা। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল হোসেইন দেহঘান সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, অবশ্যই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হবে। তিনি বলেন, ইরানের কোনো মিলিশিয়া বাহিনী নয়, ইরানই এই হামলা চালাবে। আর হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নসরুল্লাহ হুমকি দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য তাড়ানো হবে।
ট্রাম্পকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিল ইরান
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আব্দুলরাহিম মোসাভি বলেছেন, সংঘাত বাড়ানোর মতো সাহস যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ইরানের ৫২টি স্থাপনায় ট্রাম্পের হামলার হুমকির জবাবে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান। আর ইরানের ইনফরমেশন ও টেলিকমিউনিকেশন মিনিস্টার মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরোমি টুইট বার্তায় বলেন, আইসিস, হিটলার ও চেঙ্গিসরা সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে। ট্রাম্পও তাই। তিনি ট্রাম্পকে ছদ্মবেশি সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেন, শিগিগরই ট্রাম্প ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবেন যে, কেউ ইরান জাতি ও সংস্কৃতিকে পরাজিত করতে পারে না।
অস্ত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। অস্ত্রের দামও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি নর্থরোপ গ্রুমানের মজুদের দাম বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই দিন লকহেড মার্টিনের বেড়েছে তিন দশমিক ৬ শতাংশ আর রায়থনের বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
কেনিয়ার লামু কাউন্টির ‘ক্যাম্প সিম্বা’ নামে পরিচিত মার্কিন নৌ-ঘাঁটিতে সোমালিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আল-শাবাব হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে জঙ্গি গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, হামলায় সাতটি বিমান ও তিনটি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। গতকাল ভোররাতে হামলা হয় বলে নিরাপত্তা সূত্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। তবে বিমান ও সামরিক যান ধ্বংসের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি।
